শেরপুরের শ্রীবরদীতে শ্রী শ্রী বারোয়ারী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা করা হয়নি বলে দাবি করেছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।
সোমবার দুপুরে উপজেলার মধ্যবাজার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার ও সদস্য সচিব সুব্রত চন্দ্র দে’র সই করা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিপ্লব দাম ঠান্ডু।
তিনি বলেন, শ্রীবরদী উপজেলার ভায়াডাঙ্গা বাজারে দুইটি মন্দিরের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব রয়েছে। রোববার সকালে বারোয়ারী মন্দিরের তালার চেইন কেটে আসন্ন দুর্গাপূজার জন্য নির্মাণাধীন প্রতিমাগুলো একত্র করে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির একটি প্রতিনিধি টিম সরেজমিন মন্দিরটি পরিদর্শন করে এবং প্রতিমাগুলো অক্ষত অবস্থায় দেখতে পায়।
ঠান্ডুর দাবি, প্রতিমা একত্রে রাখার বিষয়টি গণমাধ্যমে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে ।
প্রতিমাগুলোর সামনে পেট্রোল রাখা হয়েছিল জানিয়ে ঠান্ডুর আরও দাবি, যেহেতু আগুন দেওয়া হয়নি, তার মানে এটা পরিকল্পিত ঘটনা।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সুব্রত চন্দ্র দে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভায়াডাঙ্গায় দুটি মন্দিরের মধ্যে কোন মন্দিরে দুর্গা পূজার মণ্ডপ হবে সেটি নিয়ে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। আমি ইতিমধ্যে দুই পক্ষকেই সমঝোতা করতে বলেছি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সুজিত দাস সুমন, মিঠুন চন্দ্র পাল, রাজন চন্দ্র দাস, লিটন প্রসাদ রায় সেতু সাহা, রতন কুমার সাহা, নব কুমার সাহা, প্রণব সাহা, ভায়াডাঙ্গা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের সভাপতি সাজু বাসফর, সাধারণ সম্পাদক বীর গুণ রবিদাসসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের ভায়াডাঙ্গা বাজারের শ্রী শ্রী বারোয়ারী মন্দিরের তালার চেইন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর এবং পেট্রোল, কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। ওই ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীবরদী থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, ঘটনা তদন্ত করা হবে।