দেশের আলাদা দুটি জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও শিশু সন্তানসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ও বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এবং শেরপুরের নকলায় এই সড়ক দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অটোরিকশার যাত্রী মা ও তার তিন বছরের শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশার আরও অন্তত তিনজন যাত্রী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের হাটিকুমরুল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নূরনগর গ্রামের বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী নীলা বেগম (২৫) এবং তার তিন বছর বয়সী ছেলে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন জানান, বিকেলে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ওই অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্ত ও চালককে আটকে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের নকলায় বাস ও সিএনজিচালকদের মধ্যে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বিরোধের জেরে বাসের চাপায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। চালক নেমে যাওয়ার পর বাসের সহকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই পথচারীকে চাপা দেয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নকলা পৌর শহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আব্দুল কাদির (৬০)। তিনি উপজেলার উত্তর গণপদ্দী গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় ‘স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর পরিচালক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে নকলা পৌর শহরের হলপট্টি মোড়ে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে ঢাকাগামী ‘রংধনু পরিবহন’ নামের একটি বাসের চালকের সঙ্গে কয়েকজন সিএনজিচালকের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে বাসচালক গাড়ি থেকে নেমে যান। ওই সময় বাসের হেলপার স্টিয়ারিং ধরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনভিজ্ঞ হওয়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারী আব্দুল কাদিরকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, দুর্ঘটনার পর ‘রংধনু পরিবহন’ বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসের চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।