হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের ব্লক চুরি, জিডির পর ফেরত ১৫৭৮

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙাপোতা হাওরের চরহাইজদা ফসল রক্ষা বাঁধ থেকে কংক্রিটের সিসি ব্লক চুরির ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক। বাঁধের বানিহারি অংশ থেকে দুই হাজার ৬৪৪টি ব্লক চুরির পর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫৭৮টি ব্লক ফেরত পাওয়া গেছে।

তবে সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধ থেকে ধাপে ধাপে ব্লক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় হাওরের আগাম ফসল রক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিনে এই চুরি হয়নি। গত এক থেকে দেড় বছর ধরে বাঁধটি থেকে ধাপে ধাপে এসব সিসি ব্লক সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিলো। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হওয়ার পরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকির ঘাটতি এবং কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে চুরির মাত্রা আরও বাড়তে থাকে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের ডিঙাপোতা হাওরের চরহাইজদা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫০ মিটার সিসি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছিল প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা। সম্প্রতি ওই বাঁধের বানিহারি অংশ থেকে হঠাৎ করেই দুই হাজার ৬৪৪টি সিসি ব্লক উধাও হয়ে যায়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলে পাউবো কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। গত ২৩ আগস্ট এ বিষয়ে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানায় জিডি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জিডির পর পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহায়তায় উদ্ধার ও ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হলে এ পর্যন্ত এক হাজার ৫৭৮টি ব্লক ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

ডিঙাপোতা হাওরের স্থানীয় কৃষকদের দাবি, হাওরে আগাম ঢল বা বর্ষার সময় এই বাঁধই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি ব্লক চুরির সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বাঁধের বাকি অংশ রক্ষায় অবিলম্বে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চুরি হওয়া ব্লক উদ্ধারে আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিচ্ছি। এ পর্যন্ত উদ্ধার ও ফেরত পাওয়া এক হাজার ৫৭৮টি ব্লক দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধে পুনরায় স্থাপন করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।