নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সড়কের পাশে রোপণ করা গাছের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের দেয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা হলেও পুলিশি তৎপরতা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
গত ২৫ আগস্ট দিবাগত রাতে কলমাকান্দা-নেত্রকোনা আঞ্চলিক সড়কের বাবনী এলাকায় প্রায় ৩৫টি গাছের চারা উপড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ভেঙে ফেলা হয় সেগুলোর সুরক্ষাবেষ্টনীও।
এর আগে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে সবুজ বেষ্টনী তৈরির লক্ষ্যে সড়কের দুই পাশে পাঁচ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেছিল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কিন্তু রোপণের মাত্র ২০ দিনের মাথায় রাতের আঁধারে চারাগুলো উপড়ে ফেলা হয়, যা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ঘটনার পরও ব্যবস্থা না নেয়ায় গত ২৮ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি মন্তব্য করেন, শুধু বাড়িঘর সম্প্রসারণের জন্য গাছ উপড়ানো বিশ্বাসযোগ্য নয়; এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।
তবে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন। সময়সীমা দিয়ে তদন্ত বাঁধা সমীচীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্ত শেষে দ্রুতই চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হবে।
একটি গাছ বড় হতে বছরের পর বছর সময় লাগলেও তা নষ্ট করতে কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট, এমন মন্তব্য করে পরিবেশবিদরা দ্রুত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধীদের আড়াল না করে কবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে?
