ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজে থাকা ২৩ নাবিকের মধ্যে সাইদ তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি মুক্তিপণ দেওয়া হবে, ততো তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়া হবে এবং মুক্তিপণ দেওয়া না হলে একে একে মেরে ফেলা হবে তাদের।
এএসএম সাইদুজ্জামান সাঈদ নওগাঁ শহরের আরজী নওগাঁ শাহী মসজিদ ফিশারি গেট এলাকার আব্দুল কায়েমের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়।
সাইদুজ্জামান সাইদের স্ত্রী মান্না তাহরিন বলেন, সর্বশেষ গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার স্বামীর সাথে কথা হয়। তখন তারা সবাই ভালো আছেন বলে তাকে জানান সাইদ। তারা ইফতার করছেন এবং সবাইকে এক রুমে রাখা হয়েছে বলে স্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি।
এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাহাজের আরেকজন তাকে ভয়েস মেসেজ দিয়ে জানান, তারা সবাই ভালো আছেন। সেহরি খেয়ে সবাই এক রুমেই ঘুমাচ্ছেন। তবে মুক্তিপণ যত তাড়াতাড়ি দেওয়া হবে, ততো তাড়াতাড়ি তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। মুক্তিপণ দেওয়া না হলে একে একে মেরে ফেলা হবে তাদের।
এটা শোনার পর আরও বেশি চিন্তায় আছেন বলে জানান সাঈদের স্ত্রী তাহরিন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে সাইদুজ্জামান সাঈদের পরিবার জানতে পারে, ছেলে যে জাহাজে রয়েছে, সে জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। পরে জাহাজটি জলদস্যুরা আটক করে সোমালিয়ায় তাদের সুবিধামত জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, এমন খবর শোনার পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। ছেলেকে ফেরত পেতে সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
বুধবার বিকেলে সাইদুজ্জামান সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে ছেলের জন্য কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।
সাইদের বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর আব্দুল কায়েম বলেন, গতকাল বিকেলে খবর পাওয়ার পর থেকে সারারাত পরিবারের কেউ ঘুমাতে পারেনি। সারারাত আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন ছেলের জন্য। ঘুমবিহীন রজনী কাটিয়েছেন তারা।
সাইদের মা কোহিনুর বেগম বলেন, এখন আল্লাহর ওপর ভরসা রাখছেন তারা। আল্লাহ যেন সুস্থভাবে তার ছেলেসহ জাহাজের সবাইকে মায়ের বুকে ভালোভাবে ফিরিয়ে দেয়। এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রী ও কোম্পানির কাছে খুব তাড়াতাড়ি তাদের মুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।
মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশে কবির গ্রুপের মালিকানাধীন কয়লা বোঝাই জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’। এরপর জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।