যুদ্ধশিশু হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মেরিনা খাতুন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত, শিগগিরই তাকে চিঠি দিয়ে জানাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মেরিনা খাতুনের এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত তার স্বজন, স্থানীয় মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের মতই মেরিনা খাতুনকেও ভাতা দেয়ার দাবি তাদের।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের পাশবিক নির্যাতনে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা পচি বেগমের গর্ভে আসে মেরিনা খাতুন। ২০১৮ সালে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পান মা। পরে ২০২২ সালে যুদ্ধশিশুর স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন মেয়ে।
অবশেষে সম্প্রতি যুদ্ধশিশুর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন মেরিনা খাতুন। বাবার নাম অজ্ঞাত রেখেই সকল সরকারি সুবিধা পাবেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের মতো ভাতাও চান মেরিনা খাতুন।
নানা জনের কটু কথা শুনলেও সবসময় মেরিনার পাশে ছিলেন তার স্বজনরা। যুদ্ধশিশুর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে এখন তারাও উচ্ছ্বসিত।
মেরিনার এই স্বীকৃতি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে, দাবি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের। তারাও মনে করেন মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই মেরিনাকে ভাতা দেয়া উচিত।
মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, তাকে যথাযথ সম্মান ও সব ধরনের ভাতা দেয়া উচিত।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুইচিং মং মারমা জানান, সরকারের নির্দেশনায় যুদ্ধশিশুর দেখভাল করবে প্রশাসন।
তিনি বলেন, তাদের প্রতি সরকার এবং রাষ্ট্রের একটি দায়বদ্ধতা আছে। তাই তাদের স্বীকৃতির মাধ্যমে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারবো।
মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষরা বললেন, যুদ্ধশিশুর স্বীকৃতিতে রাষ্ট্রে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই যুদ্ধশিশুর দায়িত্বও রাষ্ট্রেরই নেয়া দরকার।