রথযাত্রায় গুরুতর আহত দুই জন বগুড়া থেকে ঢাকায়

বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুতস্পৃষ্টে গুরুতর আহত দুই জন‌কে উন্নত চি‌কিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হ‌য়ে‌ছে। তাদের শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তা‌দের‌ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শজিমেক) আইসিইউ থেকে ঢাকায় পাঠা‌নো হয়।

আহতরা হলেন- বগুড়া সদ‌রের পালপাড়া এলাকার পাচকু‌ড়ি পা‌লের ছে‌লে রঞ্জন পালকে (৫২) ও সদ‌রের দত্তবাড়ি এলাকার ক্ষীরদ চ‌ন্দ্রের ছে‌লে চন্দন দেব (৬৮)।   

শ‌জি‌মেক হাসপাতা‌লের উপ পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, রোববার শজিমেক হাসপাতা‌লে ৩৮ জন ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছি‌লো।  

তি‌নি জানান, হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি হওয়া মোট রোগীর ম‌ধ্যে বর্তমা‌নে ২৮ জন চি‌কিৎসাধীন র‌য়ে‌ছেন। তাদের ম‌ধ্যে ২২ জন নারী এবং ছয় জন পুরুষ। তারা ঝুঁকিমুক্ত। বাকিদের সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  

এদিকে আহত ওই দুই জনকে হাসপাতালে দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আহতরা শঙ্কামুক্ত নন। 

তিনি বলেন, আমি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করব। যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে। 

তিনি আরও বলেন, বগুড়া আর বার্নে চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। এছাড়াও আহতদের যথাযথ ও সুষ্ঠু চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বগুড়ায় সরকারি হাসপাতালের পরিচালক, সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রোববার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আও ৪০ জন। 

পুলিশ জানায়, বিকেলে সেউজগাড়ী ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হয়। রথ নিয়ে শোভাযাত্রাটি সেউজগাড়ী আমতলা এলাকায় পৌঁছালে রথের চূড়াটি সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। এতে আগুন ধরে যায়। এ সময় র‌থের ওপরে বসে থাকা এবং নিচে থাকা বহু লোক আহত হন। তাদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসক পাঁচ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অসতর্কতার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য আয়োজকদের অবহেলা দায়ি।