চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে চাঁদাবাজির অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে মামলা দায়েরসহ চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সাবেক এমপি আ. ওদুদসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মামলার আবেদনের পর বিষয়টি সামনে আসে। তবে মামলা ও চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্র সংগঠনটির স্থানীয়ভাবে সম্পৃক্তরা। একই সঙ্গে এর প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেছেন সুষ্ঠু তদন্তেরও।

বুধবার দুপুরে জেলা শহরের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানান। 

এসময় তারা বলেন, গত এক নভেম্বর সদর মডেল থানায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে সাবেক এমপি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে একটি বিস্ফোরক মামলা দাখিল করা হয়। অথচ এবিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা। 

তাদের দাবি, অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করতে না জানিয়ে মামলা করা হয়েছে। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত সাব্বির আহম্মেদ জানান, পাঁচ আগস্টের পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল আমাদের ব্যানার ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে। এখানে জেলা কমিটি এখনও হয়নি এবং এখানে কোনো সমন্বয়কও নাই। তবে আমরা পারস্পরিক সমঝোতারভিত্তিতে বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করছি। কমিটি গঠনের পর ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এ নিয়ে মামলা করা হবে কিনা তা ভাবা হবে। 

আব্দুর রাহিম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, মামলাটির বাদি ইউসুফ আলী ও সাক্ষীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেউ নন। তারা ব্যক্তিগতভাবে মামলাটি করেছেন। মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেয়ার নাম করে অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুঠোফোনে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তাই তাদের ব্যানারে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মামলা করলে তাদের কোনো আপত্তি নাই। 

জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে কোন মামলা করা হয়নি জানিয়ে অপর ছাত্র প্রতিনিধি সাকির আহম্মেদ বলেন, মামলাকে কেন্দ্র করে যেসব ফোন নম্বর থেকে অব্যাহতির নামে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে সেই ফোন নম্বর প্রশাসনকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। 

সাংবাদিক সম্মেলন থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।