‘গরিবের চাল-আটা নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে হবে’

‘গরিবের চাল-আটা নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। নয়তো আমাদের অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটানো ছাড়া উপায় থাকবে না’- কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁর ইঁদুর বটতলী এলাকার বৃদ্ধা মনোয়ার বেগম। এলাকায় ওএমএসের চাল-আটা বন্ধের পর নিজের কষ্টের কথাগুলো এভাবে জানিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন তিনি।

নওগাঁয় গত চার মাস ধরে বন্ধ স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে খাদ্যশস্য চাল ও আটা বিক্রি কার্যক্রম (ওএমএস)। এটি চালুর দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন হত-দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। 

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ঘেরাও করে ঘণ্টা ব্যাপী এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় বিভিন্ন স্লোগানযুক্ত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। 

তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নওগাঁ পৌরসভা এলাকায় ১৮টি কেন্দ্রে ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে চাল, আটা দেওয়া হতো। কিন্তু পাঁচ আগস্টের পর হঠাৎ ১৫টি কেন্দ্র বন্ধ। 

শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আসা বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রিকশাচালক সোহেল রানা বলেন, সারাদিন যে আয় হয় তা দিয়ে টিকে থাকা কষ্টসাধ্য। ওএমএস কর্মসূচি চালু অবস্থায় কিছুটা সামাল দিতাম। এখন এটি বন্ধ কেন কর্মকর্তাদের কেউই তা স্পষ্ট করে বলতে চাইছেন না।

ইঁদুর বটতলী এলাকা থেকে আসা মানোয়ারা বেগম বলেন, বৃদ্ধ বয়সে এসেও রাস্তার আনাচেকানাচে বসে বিভিন্ন ফলমূল বিক্রি করি। সেই রোজগার দিয়ে চাল কিনে খাওয়ার সাধ্য আমাদের নেই। তাই ওএমএস-ই শেষ ভরসা ছিলো। গরিবের সেই চাল-আটা নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। নয়তো আমাদের অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটানো ছাড়া উপায় থাকবে না।

নওগাঁ জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক এনামুল কবির বলেন, বন্ধ থাকা ওএমএস কেন্দ্র চালুর দাবি নিয়ে অফিস চত্বরে আসা ভোক্তাদের কথা শুনেছি। তাদের দাবির বিষয়গুলো জেলা ওএমএস কমিটি বরাবর উত্থাপন করা হবে। শিগগিরই ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সঙ্কটের সমাধান করা হবে।

নওগাঁ জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আব্দুর আউয়াল বলেন, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের পর নওগাঁ পৌরসভা এলাকার অধিকাংশ ওএমএস ডিলার সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে যৌথ মতামতের ভিত্তিতে ১৫টি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছিলো। সেই সঙ্গে নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। যেহেতু তারা বিক্ষোভ করেছেন, প্রয়োজনে যৌথ মতামতের ভিত্তিতে আবারও কেন্দ্রগুলো চালু করা হবে।

পরে জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক এনামুল কবিরের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে যান।