বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠী আয়োজিত সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের অনুষ্ঠানে বাঁধা, কয়েকজনকে মারধর ও অফিসে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে।
বুধবার (১৪ মে) বিকেলে বগুড়া পৌর শহরের শহীদ খোকন পার্কে উদীচীর অনুষ্ঠানে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
উদীচীর সদস্যরা জানান, সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় কিছু লোককে ফ্যাসিবাদ বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি, হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উদীচী বগুড়া জেলা সংসদ কার্যালয়ের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উদীচী বগুড়া সাতমাথায় মুক্তমঞ্চে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের আয়োজন করে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সেখানে গেলে ফ্যাসিবাদ বিরোধী মঞ্চের ব্যানারে একদল লোক তাদের বাঁধা দেয়। এর পরে উদীচীর কর্মীরা পাশের খোকন পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনারে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য যায়। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি ও পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী মঞ্চের নেতাকর্মীরা উদীচী অফিসে হামলার চেষ্টা করলে তাদের নিবৃত কর হয়৷ এ ঘটবায় উদীচী ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী মঞ্চ দুই সংগঠনই তাদের নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
এদিকে উদীচী বগুড়া জেলা সংসদ সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিকেলে উদীচীসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা মঞ্চে অবস্থান নেন। বিকেল পাঁচটার দিকে অর্ধশত তরুণ সেখানে যান। তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের ব্যানারে ফ্যাসিস্ট ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এক পর্যায়ে তারা সেখানে মাইক টানিয়ে দেন। এ কারণে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান করতে না পেরে উদীচীর শিল্পীরা শহরের শহীদ খোকন পার্কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করেন। একদল তরুণ সেখানেও হামলা চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর উদীচীর শিল্পীরা শহরের সাতমাথায় জেলা সংসদ কার্যালয়ে অবস্থান নেন। আর ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের ব্যানারে আসা তরুণেরা সাতমাথায় মুক্তমঞ্চের সামনে অবস্থান নেন।
এক পর্যায়ে উদীচীর জেলা শিল্পী সংসদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া আয়োজক ও শিল্পীদের ধাওয়া দেন তরুণেরা। এ সময় তারা উদীচী কার্যালয়ের ব্যানার ছিঁড়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে।