মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগ: শিক্ষক গ্রেপ্তার ও একজন বহিষ্কার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় উল্লাপাড়ায় এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং মতলব উত্তরে অন্য এক শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষক গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহ জালাল (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সোনতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহ জালাল সলপ ইউনিয়নের বাহিমান গ্রামের বাসিন্দা এবং সোনতলা মডেল হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।

স্থানীয়রা জানান, ওই মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন শাহ জালাল। শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি তার মাকে জানায়। মঙ্গলবার রাতে শিশুটির মা স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রূপকর বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মতলব উত্তরে শিক্ষক বহিষ্কার

এদিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার রাড়ীকান্দি দারুসুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে সহকারী মৌলভী মো. মামুন মিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে এই নির্দেশ দেন।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, মামুন মিয়া দুই-তিন বছর আগে যোগদানের পর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। অন্য শিক্ষকদের জানিয়েও প্রতিকার না পেয়ে তারা ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করে।

অভিযুক্ত শিক্ষক মামুন মিয়া কিছু অভিযোগ অস্বীকার করলেও এক ছাত্রীর প্রতি তার ব্যক্তিগত পছন্দের কথা স্বীকার করেছেন। তবে ওয়াশরুমে কোনো অনৈতিক কাজের বিষয়টি তিনি নাকচ করে দেন।

ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগে সরেজমিনে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজুলেশনের মাধ্যমে ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্ত মামুন মিয়া স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।