সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তিন যুগের বেশি সময় আগে এক যুবককে লুকিয়ে রেখে সাজানো অপহরণ মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার দায়ে চার ব্যক্তিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন এই আদেশ দেন।
দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন—শাহজাদপুর উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের কাশেম আলী, আকবর আলী, আছের উদ্দিন ও বছিরুন্নেছা।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালের ১৮ জুলাই শাহজাদপুর উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের আমির হোসেন মণ্ডলের ছেলে হিমুর সঙ্গে পাশের কাশীনাথপুর গ্রামের দেলবর খন্দকারের ছেলে আরমানের মারামারি হয়। এই ঘটনার জেরে দেলবর খন্দকার তার ছেলে আরমানকে টাঙ্গাইলে তার ফুপুর বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। পরে আরমানকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে আমির হোসেন মণ্ডলসহ তার পরিবারের ছয়জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
তৎকালীন সময়ে ওই মামলায় আদালত দণ্ডিত চার সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আমির হোসেন মণ্ডল, তার ভাই ইমাম মণ্ডল এবং আমির হোসেনের দুই ছেলে বাবু ও হিমু মণ্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হাদীউজ্জামান শেখ হাদী জানান, আমির হোসেনের পরিবার দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগ করে মুক্তি পান। জেল থেকে বের হয়েই তারা কথিত ‘অপহৃত’ আরমানকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর ২০০৯ সালে তারা খবর পান যে, আরমান পাবনার চাটমোহরে তার এক আত্মীয়র বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছেন। পরে র্যাবের সহায়তায় সেখান থেকে জীবিত আরমানকে উদ্ধার করা হয়।
নির্দোষ হয়েও ১০ বছর জেল খাটা বাবু মণ্ডল পরে অপহরণ মামলার বাদি ও সাক্ষীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।
পিপি হাদীউজ্জামান শেখ জানান, এই দীর্ঘ সময়ে মূল মামলার বাদি ও ভিকটিম আরমান মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের জেল খাটানোর প্রমাণ পাওয়ায় আজ চার সাক্ষীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিলেf আদালত।