তারা কেমন শিক্ষক?

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের ‘আল হেদায়াত হিফজুল কুরআন মডেল মাদরাসায়’ ৯ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে গলা টিপে শূন্যে তুলে আছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক সাকির আলী (২৩) এবং তাকে সহযোগিতার অভিযোগে অপর শিক্ষক নাহিদ আলীকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) সকালে মাদরাসার ভেতরেই এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তবে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গ্রেপ্তার সাকির আলীর বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার দুধাই নন্দীপুকুর গ্রামে। অপর শিক্ষক নাহিদ আলী একই এলাকার কাঁকনহাটের মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, অন্য শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষক সাকির আলী প্রথমে শিশুটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তিনি শিশুটির গলা চেপে ধরে শূন্যে তুলে সজোরে মাটিতে আছাড় দেন। শিশুটি যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করলেও ওই শিক্ষক নির্যাতন চালিয়ে যান। ভিডিওর শেষ অংশে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বিপরীত দিক থেকে এসে অভিযুক্ত শিক্ষকের সামনে দাঁড়ান।

নির্যাতনের শিকার শিশু মো. নূর ই সাফী (০৯) ওই মাদরাসার নাজেরা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। তার মামা মোখলেসুর রহমান বাদি হয়ে বুধবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাকির আলী দীর্ঘদিন ধরেই তুচ্ছ কারণে শিশুটিকে মারধর ও গালিগালাজ করতেন। বুধবার সকালে অপর শিক্ষক নাহিদ আলীর নির্দেশেই সাকির এই অমানুষিক নির্যাতন চালানোর সাহস পান। অভিযুক্ত সাকিরের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কঠোর আচরণের অভিযোগ ছিলো বলে জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একরামুল হোসাইন বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযান চালিয়ে রাতেই দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ৯ বছরের এক কোমলমতি শিশুর ওপর এমন পৈশাচিক আচরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।