অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিখোঁজের আট দিন পর এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে গোপনে মরদেহটি দাফন করতে গেলে খবর পেয়ে তা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর বাগডাঙ্গা সীমান্ত এলাকার পদ্মার চর থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ।
নিহতের নাম শওকাত আলী (৩৬)। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের সাহাপাড়া ঠুঠাপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মতিউর রহমান বলেন, সদর উপজেলার চরাঞ্চলে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিহত শওকত তিন-চারজনের সঙ্গে প্রায় এক সপ্তাহ আগে গরু আনার জন্য ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর শনিবার তার পরিবারের সদস্যরা চর বাগডাঙ্গা এলাকার একটি চরে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান। তারা মরদেহটি এনে গোপনে দাফনের চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে।
ওসির তথ্যমতে, নিহত ব্যক্তির হাত, পা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার পর নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।
নিহতের ভাই কালু জানান, তার ভাই কাজের জন্য অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। গতকাল শনিবার সকালে তারা জানতে পারেন যে তার ভাইয়ের মরদেহ ভারতীয় ভূখণ্ডে পড়ে রয়েছে। পরে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ভারত থেকে মরদেহটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আনার ব্যবস্থা করেন তারা। এরপর পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে তার ভাই ঠিক কী কারণে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন কালু।
তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্য চোরাকারবারিদের সঙ্গে শওকত ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে একজোড়া গরু বাংলাদেশে আনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
এদিকে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে পুলিশ একটি মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। শওকতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।