চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাইবান্ধায় বজ্রপাতে মা-ছেলেসহ চার মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাইবান্ধায় আলাদা বজ্রপাতের ঘটনায় মা-ছেলে ও এক কিশোরসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা দুটিতে আলাদা বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

একাত্তর নিজস্ব প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন-

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলাদা স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় এক কিশোরসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন—সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মো. বাবুর ছেলে মো. মিরাজ (১৬) এবং জেলা শহরের পৌর এলাকার শিয়ালা কলোনি গ্রামের মো. মঙ্গল হোসেনের ছেলে মো. মুনিরুল ইসলাম (৪০)।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল পৌনে তিনটার দিকে কিশোর মিরাজ ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের একটি আমবাগানে আম প্যাকেজিংয়ের কাজ করছিলো। এ সময় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মিরাজকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, বিকেল তিনটার দিকে সদর পৌর এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালা কলোনিতে আরেকটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এ সময় মুনিরুল ইসলাম নিজের বাড়ির উঠানে টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. একরামুল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের আলাদা দল ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

গাইবান্ধা

এদিকে গাইবান্ধায় বজ্রপাতে মা ও ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে জেলার সাঘাট উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

‎নিহতরা হলেন- মান্দুরা গ্রামের শৈলেন চন্দ্র দাসের স্ত্রী কল্পনা রাণী (৫৫) ও ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩২)।

‎স্থানীয়রা জানায়, সোহাগ চন্দ্র দাস ঢাকায় চাকরি করতেন এবং ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। বিকেলে আবহাওয়া খারাপ হয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিলে তার মা কল্পনা রানী তাকে বাইরে শুকাতে দেওয়া খড় ও পাতা তুলে আনতে যান। বাড়ির বাইরে গেলে আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন।

‎মান্দুরা গ্রামের ইউপি সদস্য সাহিন আলম জানান, বজ্রপাতের সঙ্গে সঙ্গেই মা-ছেলে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়। 

‎মা-ছেলের এই মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনও।