স্ত্রীসহ দুজনের যাবজ্জীবন, রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে এজলাসে বিক্ষোভ

সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজনকে জবাই করে হত্যার মামলায় তার স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথিসহ দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে, সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এজলাসের সামনে ও পরে আদালত প্রাঙ্গনে এসে বিক্ষোভ করে নিহত সুজনের সজনরা। এ সময় বিক্ষুব্ধরা রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মনিরুল ফকির আদালতে উপস্থিত থাকলেও যাবজ্জীবপ্রাপ্ত আরেক আসামি নিহত সুজন স্ত্রী পলাতক রয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নিহতের স্ত্রী জামিলা তিথি ও তার পরকীয়া প্রেমিক শাহজাদপুর উপজেলার দরগাপাড়া গ্রামের বেলাল ফকিরের ছেলে মনিরুল ইসলাম।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও তিথির ভাই পিয়াস হোসেন।

Screenshot 2026-08-18 190212
এদিকে, রায় ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন নিহত সুজনের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও বন্ধুসহ শতাধিক নারী-পুরুষ। তারা এই রায় মানি না, মানবো না’ স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নিহত যুবদল নেতার মা মাজেদা সামাদ বলেন, আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করেছে, আজ তাদের মামলার আসামি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই রায় আমি মানি না, মানবো না। আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আমার ছেলের হত্যার বিচার দ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। আমি চাই, যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

আদালতে চত্বরে দাঁড়িয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, এই রায়ে আমরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ। সুজন ছিল যুবদলের একজন নেতা। তার হত্যার ঘটনায় আমরা যে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছিলাম, এই রায়ে তা প্রতিফলিত হয়নি। তাই আমরা এ রায় মেনে নিচ্ছি না। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। সুজন হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।

আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামসুজ্জোহা শাহেন শাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করে মামলার বরাত দিয়ে জানান, ২০১৫ সালের ২ জুন সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজনকে পরকিয়ার জেরধরে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় গলাকেটে জবাই করে স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সুজনের মা মাজেদা বেগম বাদী হয়ে তিথি ও পিয়াসের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর উম্মে জামিলা তিথি, শ্যালক পিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মনিরুল ও রাশেদুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। উম্মে সালমা তিথি ও মনিরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়। নিজেদের পরকীয়ার জেরে ঘুমন্ত সুজনকে চাপাতি দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয় বলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন