পাবনা সদর উপজেলার একটি বিলে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে শিশুসহ ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিল বিল এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে ছয়জনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় এবং নিহতের স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- পাবনা সদর উপজেলার গঞ্জমতি গ্রামের মিজান আলী (১২), সাজিদ হোসেন (১০), আব্দুল্লাহ প্রামাণিক (১৮), ইমন হোসেন (১৪), শাওন (২২) এবং নলমুড়া গ্রামের রব্বেল হোসেন (২২)। নিহতদের মধ্যে মিজান, সাজিদ, আব্দুল্লাহ ও ইমন সম্পর্কে পরস্পরের চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাই। এছাড়া আহত দু’জন হলেন একই গ্রামের রিপন (৩২) ও নাম না জানা ১৪ বছরের এক কিশোর।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে নিহত ও আহত ব্যক্তিরা দল বেঁধে সোনাপাতিল বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। বিকেলবেলা হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তাঁরা নিজেদের বাঁচাতে পাশেই জেলেদের তৈরি একটি ছাউনিতে আশ্রয় নেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রচণ্ড বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ৬ জনের মৃত্যু হয় এবং দু’জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পাবনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহমদ আলী সরকার জানান, মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামটিতে ছুটে যান। নিহতদের সবাই দরিদ্র কৃষকের সন্তান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঠিক তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, একসঙ্গে এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা এবং আহতদের পরিবারপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস পুরো পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।