পঞ্চগড়ে এবার বেশি শীত

‘উনো বর্ষায় দুনো শীত’ অর্থাৎ যে বছর বৃষ্টি কম হয়, সেই বছর শীত বেশি হবে; এই খনার বচন এ বছর তারই প্রমাণ দিচ্ছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়সহ বাংলাদেশের সব জেলায়।

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এবছর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এছাড়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশা। 

এ বছর শীতে সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়া। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় নেমেছিল পাঁচ ডিগ্রিতে।
 
জানুয়ারির শুরুতে মৃদু থেকে মাঝারি, আর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে দাপট নিয়ে আসে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। টানা এক মাসে শীতের দাপটে নাকাল জেলার মানুষ, অসহনীয় শীতে সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষ পড়েছেন বিপাকে। শীতের কষ্ট আর ভোগান্তি নিয়ে দিন পারি দিচ্ছি নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। 

পুরো মাস ধরে শীতের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। আয় রোজগার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এই অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষগুলো। সেই সঙ্গে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ ডাইরিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি জ্বর, শ্বাসকষ্ট, রোটা ভাইরাস, ব্রংকিওলাইটিসসহ নানা রোগ। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় সব বয়সের মানুষ। 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রথম শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে থেমে থেমে চারটি শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে  দ্বিতীয় দফায় প্রথম দফার শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়।

এদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নবজাতক ও শিশু রোগ বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. মাহাবুব আর সুমন জানান, টানা এক মাসের তীব্র শীতে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। প্রতিদিন গড়ে ৩০/৪০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এ পর্যন্ত  ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। সেই সঙ্গে রোগমুক্ত থাকতে পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। 

তেঁতুলিয়া উপেজলার মহানন্দা নদীর নির্ভরশীল পাথর শ্রমিক আব্বাস আলী (৫৬) জানান, গত কয়েক বছরে এমন শীত হয়নি। কুয়াশা ও শীতের মধ্যে ঠান্ডা পানিতে নেমে পাথর, বালু উত্তোলন করে সংসার চালাতে হয়। কিন্তু এক মাসের টানা এই তীব্র শীতে আমরা প্রায় ৩০ হাজার  শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছি। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় কষ্টে দিন পার করছি। গরম কাপড়ের অভাবে দিনরাত আগুন পোহাতে হচ্ছে। তবে হয়তো আর দুই/এক সপ্তাহ পর শীত কমে গেলে আর কষ্ট থাকবে না। তার মতো পাথর ভাঙা শ্রমিক, চা শ্রমিকসহ কৃষি শ্রমিকদেরও একই অবস্থা। 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান,পঞ্চগড়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তীব্র-শৈত্যপ্রবাহসহ তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঘরে নেমে এসেছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে ৩/৪ তারিখের মধ্যেই শৈত্যপ্রবাহ কেটে যাবে। 

এর আগে ২০১৮ সালে আট জানুয়ারি ৫০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে দেশের সর্বনিম্ন  তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়ায় দুই দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ২০১৯ সালে ২৯ ডিসেম্বর তাপমাত্রা রেকর্ড করায় চার দশমিক পাচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবারও চলতি শীত মৌসুমে এই পর্যন্ত দেশের ও মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়ায় পাঁচ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস।