দেশের বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে শুল্ক মুক্তভাবে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয় বাংলাদেশ সরকার। সেই মোতাবেক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি হয়। এমনকি সোমবার পহেলা বৈশাখের দিনেও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) থেকে চাল আমদানি বন্ধ হওয়ার খবরে হিলি স্থলবন্দরে পাইকারিতে দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা।
এদিকে চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন পাইকাররা। তাদের দাবি, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কয়েকদিনে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি হওয়ার পরেও দাম বেড়েছে।
অপরদিকে আমদানিকারকরা বলছেন, চাল আমদানি বন্ধ হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। আর কিছুদিন যদি সরকার আমদানি বাড়ায় দেয় তাহলে দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকতো।
ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। সেই সঙ্গে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় চালের আমদানি শুল্ক। এরপর গত বছরের ১১ নভেম্বর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয় ভারত থেকে চাল আমদানি, তবে দেশের হাওর অঞ্চলে নতুন ধান উঠতে শুরু করায় বুধবার (১৬ এপ্রিল) থেকে ভারত থেকে চাল আমদানির দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হয়েছে।
গতকাল ১৬ এপ্রিল থেকে ভারতের চাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে যদি কেউ চাল আমদানি করতে চায় তাহলে ৬২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করতে পারবেন। এ কারণেই শেষদিকে আমদানি বেড়েছে। গত কয়েকদিন থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন চাল আমদানি হয়েছে গড়ে ১৫০ ভারতীয় ট্রাকে। তারপরও কমেনি চালের দাম, বরং বেড়েই চলেছে।
আমদানি বন্ধের অজুহাতে হিলি স্থলবন্দরে পাইকারিতে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা। বর্তমান কাটারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৬৯ টাকা কেজি দরে, আর স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৩ টাকা কেজি দরে। গত কয়েকদিন আগেও কাটারি চাল বিক্রি হয়েছে ৬৪ টাকা কেজিতে।
এদিকে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন পাইকাররা। বন্দরের কয়েক জন পাইকার জানান, ১৫ এপ্রিলের আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ব্যাপকহারে চাল আমদানি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক করে চাল আমদানি হয়েছে। এমনকি পহেলা বৈশাখের দিনও চাল আমদানি হয়েছে ২০১ ট্রাকে ৮ হাজার ৪৮১ মেট্রিক টন। তারপরও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বন্দর থেকে চাল বিক্রি না করে গুদামজাত করেছেন এবং দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি বাজার মনিটরিং করা যেতো তাহলে দামটা নিয়ন্ত্রণে থাকতো।
আমদানিকারকরা বলছেন, ভারত থেকে একসঙ্গে চাল আমদানি করতে গাড়ি ভাড়া বেশি পড়ে গেছে, তাছাড়া চালের চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। তাছাড়া উত্তরবঙ্গে ধান কাটতে এখনো ১ মাস সময় লাগবে, তাই আর কয়েকদিন আমদানির অনুমতি দিলে দেশের বাজারে চালের দাম সহনীয় থাকতো।
হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি স্বাভাবিক ছিলো, আমদানিকারকরা যাতে দ্রুত বাজারজাত করতে পারেন সেই লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত ছাড়করণ করা হয়েছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন।