পঞ্চগড় সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় ১১ নারী আটক

ঠাকুরগাঁও সেক্টরের অধীনস্থ নীলফামারী ব্যাটালিয়ন (৫৬ বিজিবি) সীমান্তে চোরাচালান দমন, নারী ও শিশুসহ মানব পাচার রোধ, মাদকদ্রব্য পাচার, সীমান্ত সংক্রান্ত সকল অপরাধকারী এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে বিজিবি।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থানাধীন শুকানী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৭৪২/১-এস হতে আনুমানিক ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমজোয়ানী নামক স্থান দিয়ে শুক্রবার (৮ আগস্ট)  ভোররাতে বাংলাদেশি ১১ নারী নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় শুকানী বিওপির দুইটি অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের প্রাক্কালে ১১ জন (নারী) বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে বিজিবি।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, যশোর জেলার শার্শা উপজেলাধীন বাইকুলা গ্রামের মৃত নুরালি বিশ্বাস এর মেয়ে ফুলসুরাত (৬০), কোতয়ালী উপজেলাধীন রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মান্নান এর মেয়ে রোজিনা খাতুন (৩৫), অভয়নগর উপজেলাধীন চন্দ্রপুর গ্রামের জালাল বিশ্বাসের মেয়ে সেলিনা বেগম (২৫), নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলাধীন জামিলডাঙ্গা গ্রামের মিরাজ খন্দকারের মেয়ে চুমকি খাতুন (২৫), তাকরিজ আলীর মেয়ে হাসনা হেনা খাতুন (৩০), মাধবপুর গ্রামের আনসার মুন্সীর মেয়ে রোজিফা (৩২), লোহাগড়া উপজেলাধীন চরকালনা গ্রামের দেলোয়ার মোল্লার মেয়ে মিনা খাতুন (২৪), বেতগ্রাম গ্রামের মফিজ মোল্লার মেয়ে বন্যা খাতুন (২৪), টুংগীপাড়া উপজেলাধীন দক্ষিণ বাঁশরিয়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে রূপা খানম (২৫), মাদারীপুর জেলার জাজিরা উপজেলাধীন ফরিদপুর গ্রামের বাবুল বেপারীর মেয়ে শাবানা বেপারী (২৭) এবং ফরিদপুর জেলার রাজর উপজেলাধীন সোত্যপতি গ্রামের হাকিম তালুকদার এর মেয়ে সালেহা খাতুন (৪০)।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ভারতে প্রবেশের নিমিতে একাধিক দালাল চক্রের মাধ্যমে সর্বমোট ১,৬৫,০০০/- টাকা চুক্তিতে সীমান্ত এলাকায় আগমন করে।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে বাংলাদেশী নগদ ৭০০/ টাকাসহ পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থানায় সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে নীলফামারী ব্যাটালিয়ন (৫৬ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সদর দপ্তর বিজিবি’র নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধকল্পে বিজিবির অভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যে কোন মূল্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোখে ৫৬ বিজিবি কঠোর নজরদারি নিশ্চিতের পাশাপাশি অনুপ্রবেশ বন্ধে সদা প্রস্তুত।