ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে সংঘটিত এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, প্রধান তিন আসামি মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত এই তিন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারার সুবিধা কিংবা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের রেমিশন (সাজা মওকুফ) সুবিধা পাবেন না।
এছাড়া অপর তিন আসামি মো. আনিছুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
রায়ে আদালত নির্দেশ দেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে দণ্ডিতদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার চার দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদি হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া প্রধান আসামি মো. আনিস রানা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) সাংবাদিকদের বলেন, এই রায় সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ ১৫ বছর পর কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছে।
