তিস্তা পাড়ের তিন জেলার মানুষের স্বপ্নযাত্রা শুরু

চলাচলের জন্যে খুলে দেয়া হলো গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুরে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত মওলানা ভাসানী সেতু। বুধবার এক হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিস্তা নদীর তীরবর্তী তিন জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল তিস্তায় মওলানা ভাসানী সেতু খুলে দেওয়ায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার মানুষের মধ্যে দিনটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। তারা বলছেন, এতে করে সুন্দরগঞ্জ এবং চিলমারী উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হলো। 

বুধবার দুপুরে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া সেতুর উদ্বোধন করতে পৌঁছান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। ফিতা কেটে তিনি সেতুর উদ্বোধন করেন। সেখান থেকে আসিফ ভূঁইয়া যোগ দেন চৌরাস্তা্ মোড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্ত আয়োজিত সমাবেশে। 

সকাল থেকেই প্রতীক্ষিত সেতুর উদ্বোধনের জন্য দুই পাড়ে আসতে থাকেন হাজারো মানুষ। তাদের চোখে মুখে ছিলো আনন্দ উচ্ছ্বাস। সেতুটি চালু হওয়ায় সহজ হলো তাদের সড়ক যোগাযোগ। তারা জানান, এখন থেকে কম খরচে কৃষি পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। পাশাপাশি শিক্ষা, পর্যটন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।  

নদীর দুই পারের হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষ ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। সেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরাঞ্চল এখন নতুন জনপদে পরিণত হয়েছে। নতুন স্বপ্নে বিভোর চরাঞ্চলের মানুষ। সেতুটি উদ্বোধনের পরেই যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাজার হাজার নারী-পুরুষ সেতু খুলে দেয়ায় পার হয়ে এসেছেন বিভিন্ন স্থান থেকে।

এখন উত্তর জনপদের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার ৩৫ লাখ মানুষের মধ্যে যোগাযোগের সুবিধা অনেক বৃদ্ধি হবে। তিন জেলার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই সেতু অনেক বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন। চিকিৎসা সুবিধা, অল্প সময়ে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াসহ কৃষিপণ্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া সহজ হবে বলে জানান চরাঞ্চলের মানুষ।

কুড়িগ্রামের বাসিন্দারা জানান, এখন থেকে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি ভূরুঙ্গামারী স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানীর দূরত্ব কমবে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত। গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যে সংযোগ বাড়াতে ২০১৪ সালে এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। ২০১৮ সালের পাঁচ নভেম্বর প্রকল্পটির দরপত্রের পর কাজ পায় চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়।