একবার টেনে নামালেও আবারও তেঁতুল গাছের মগডালে সেই নারী!

একবার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টেনে নামানোর চেষ্টা করলেও এক মাসের ব্যবধানে আবারও সেই তেঁতুল গাছের মগডালে উঠে বসে রইলেন সাজেদা বেগম (৫০) নামের এক নারী। 

সোমবার (৮ জুন) সকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এই ঘটনা আবারও ঘটে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং ওই নারীকে একনজর দেখতে পুকুরপাড়ে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

প্রায় তিন ঘণ্টা গাছের ডালে বসে থাকার পর মানুষের উপস্থিতি ও শোরগোল দেখে ওই নারী মগডাল থেকে নিচে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। 

সাজেদা বেগম উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের গোড়াই আনন্দবাজার এলাকার মো. আবু সাইদের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এটিই প্রথম নয়। চলতি বছরের গত ছয় মে-ও একইভাবে ওই একই তেঁতুল গাছের মগডালে উঠে বসেছিলেন সাজেদা বেগম। সে সময় খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গাছ থেকে নামানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কাছাকাছি পৌঁছালেই তিনি সেদিনও পুকুরের পানিতে লাফিয়ে পড়েছিলেন। ঠিক এক মাস দুই দিনের মাথায় আজ আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো।

এদিন সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে গেলে হঠাৎ ওপরের দিকে তাকিয়ে তেঁতুল গাছের মগডালে ওই নারীকে বসে থাকতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ পুকুরপাড়ে জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপস্থিত জনতা যখন তাকে নেমে আসার অনুরোধ করছিলো, তখন তিনি কোনো কথা না বলে চুপচাপ বসে ছিলেন। একপর্যায়ে ভিড় আরও বাড়লে তিনি ডাল বেয়ে নিচে নেমে পুকুরের পানিতে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে কিনারে উঠলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরে নিয়ে যান। বাড়িতে ফেরার পর তিনি কিছুটা অদ্ভুত আচরণ করছেন বলে জানা গেছে।

সাজেদা বেগমের পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই নারীর ওপর ‘জিনের আছর’ রয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এমন অদ্ভুত আচরণ করছেন।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এটি কোনো অলৌকিক বিষয় বা অলৌকিক শক্তির প্রভাব নয়; বরং এটি তীব্র মানসিক অসুস্থতা (যেমন সিজোফ্রেনিয়া বা ডিলিউশন)–এর লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের রোগীকে কোনো কবিরাজি বা ঝাড়ফুঁক না করিয়ে দ্রুত মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে সুচিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।