আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশজুড়ে যখন কোরবানির আনন্দ আর ঘরে ঘরে মাংসের সুঘ্রাণ, তখন কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে শুধুই নদীর ভেজা গন্ধ আর বৃষ্টির রিনঝিন শব্দ। এখানকার মানুষের ঈদ আনন্দ বলতে কিছু নেই। কেনা হয়নি কোনো নতুন পোশাক, বছরের এই একটি দিনেও অনেকের ভাগ্যে জোটেনি একটু মাংসের স্বাদ। চরের মানুষের ঈদ কাটে নদীর সঙ্গে লড়াই করে, এক বুক শূন্যতা নিয়ে।

সরেজমিন, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের বাসিন্দা জাহানারা বেগমের ঘরে কোরবানির মাংস তো দূরের কথা, দুপুরে কোনো রকমে ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। রাতে কী খাবেন, তা-ও জানা নেই। টানা বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিন ধরে কাজে যেতে পারছেন না তিনি। শুধু জাহানারা বেগমই নন, জেলার বিভিন্ন চর ও দ্বীপচরের শ্রমজীবী মানুষগুলোর একই অবস্থা।
নদ-নদী অববাহিকার উত্তরের শেষ প্রান্তের জেলা কুড়িগ্রাম। ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা ৪০৫টি চর ও দ্বীপচরে প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ মানুষ বাস করেন। চরের মানুষের কাছে কোরবানির ঈদ মানে নিজের ত্যাগ আর স্বপ্নকে বিসর্জন দেওয়া। কিন্তু তার বিনিময়ে আনন্দের কোনো ভাগ তারা পান না।
চরাঞ্চলের মানুষেরা অভাবের সংসারে কষ্ট করে যে গরু-ছাগলকে এতোদিন পরম যত্নে লালন-পালন করেছিলেন, কোরবানির হাটে সেগুলোই বিক্রি করে দিতে হয়েছে সংসারের নিত্যদিনের চাহিদা মেটাতে। ফলে নিজেদের পালিত পশু বিক্রি করলেও ঈদের দিনে চরের ঘরে ঘরে চলে অন্যরকম এক নীরব হাহাকার। তাদের জীবন তো ১০টি সাধারণ গ্রামের মানুষের মতো নয়; তাদের ঈদ যেন পানির মতোই ভাসমান, যা শুধু স্বপ্ন নিয়েই কাটে।
চরাঞ্চলের এই উৎসবহীন বিবর্ণ পরিস্থিতির মাঝে জেলার কালীর আলগা চরের মানুষের জন্য একটু খুশির বার্তা নিয়ে এসেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবানকারী শফিকুল ইসলাম বেবু। চরের অভাবী মানুষের মুখে ঈদের দিনে একটু মাংস তুলে দিতে তিনি এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন।
শফিকুল ইসলাম বেবু তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পরিসংখ্যান বিভাগের বন্ধুদের সহায়তায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কালীর আলগা চরে একটি গরুর কোরবানির ব্যবস্থা করেছেন। এই একটি উদ্যোগের কারণেই আজ ঈদের দিনে কালীর আলগা চরের মানুষ অন্তত একটু মাংস খেতে পারবেন।
তবে এই একটি চরের বাইরে কুড়িগ্রামের শত শত চরের লাখো মানুষের ঈদ কাটছে চরম অনাহারে আর অবহেলায়। বৈষম্যহীন সাম্যের সমাজ গড়ে না উঠলে চরের এই মানুষগুলোর জীবনের এমন চরম আর্থিক সঙ্কটের অবসান কবে হবে—সেই প্রশ্ন রয়েই যায়।
