ছাদনাতলা থেকে চিতা, শেষ বিদায়েও একসঙ্গে দম্পতি

জীবনের শুরুটা হয়েছিল শুভ পরিণয়ের মধ্য দিয়ে—ছাদনাতলায় একে অপরের হাত ধরে বেঁচে থাকার যে অঙ্গীকার করেছিলেন, মৃত্যুর পর শেষযাত্রাতেও বিচ্ছেদ হলো না তাদের। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর শোকে রেলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী। ভালোবাসার এই ট্র্যাজিক পরিণতির মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পাশাপাশি দুটি চিতায় দাহ করা হয়েছে এই দম্পতিকে। এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বামীর মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া দম্পতি হলেন- আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ। হরেন্দ্রনাথ বর্মন স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারী ছিলেন এবং তার স্ত্রীও নিয়মিত মন্দিরের ধর্মীয় কাজে যুক্ত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভোগার পর সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মণ। স্বামীর মৃত্যুর পর সারারাত তার লাশের পাশে বসে কান্নাকাটি করছিলেন নিত্য বালা। মঙ্গলবার ভোরে সবার অলক্ষে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সকালের দিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী ‘বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নিচে শুয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে স্বজনেরা রেললাইনে তার ছিন্নভিন্ন মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে দুপুরের মধ্যে বাড়ির পাশে নিজেদের ফসলি জমিতে প্রস্তুত করা শ্মশানে পাশাপাশি দুই চিতায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ দাহ করা হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতদের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর মা সারারাত পাশে বসে কেঁদেছেন। সকালে হঠাৎ মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রেললাইনে তার মরদেহ পাওয়া যায়। বাবা-মাকে গভীর ভালোবাসতেন বলেই মা এমন পথ বেছে নিয়েছেন।

স্থানীয় প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখেছি কাকি কাকাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। কিন্তু স্বামীর শোকে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়ার মতো ঘটনা এই যুগে বিরল। একই দিনে দুজনের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।

এ বিষয়ে আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মতিয়ার রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি রেললাইনে ঘটেছিলো, তাই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে।