রংপুরের মিঠাপুকুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকের পেছনে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নারীসহ কমপক্ষে ১৪ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মোজাফফর রহমান (৩৫) ও গোলাপী বেগম (৪৮) এবং উলিপুর উপজেলার বাসিন্দা বাসের সহকারী (হেল্পার) আপেল মাহমুদ (২৫)। তবে নিহত অপর একজনের পরিচয় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ফজরের নামাজের পর বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের বিপরীত পাশে মাজার মসজিদের সামনে একটি মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাক রাস্তার পাশে দাঁড় করানো ছিল।
এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী ‘খান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের সামনের অংশটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই একজন যাত্রী মারা যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় বাসটির ভেতর থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনসহ মোট চারজন মারা গেছেন। আহতদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসাধীনদের অবস্থা বিবেচনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।