ভোট সুষ্ঠু হলে ফল মানবেন দেলাওয়ার, জয়ের আশায় মির্জা ফয়সল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। অপরদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। তবে ভোট ‘মাগুরা মার্কা’ হলে সেই ফল গ্রহণ করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুই প্রার্থী এসব কথা বলেন।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। ভোট দেওয়া শেষে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে এখনই মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে প্রত্যাশা করছি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকলেও ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফয়সল বলেন, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই চূড়ান্ত এবং জনগণ যে রায় দেবেন, তা প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস আমার নেই।

এদিকে দুপুর ১২টার দিকে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমীন রুহিয়া প্রগতি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে  বলেন, এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সবমিলিয়ে ৬২ থেকে ৬৫ শতাংশ ভোট গ্রহণ হবে বলে, আশা করছেন তিনি। তবে, কিছু কিছু কেন্দ্রে, জামায়াতের এজেন্টরা ডাব এবং হাত পাখা মার্কার এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মির্জা ফয়সল আমীন।

এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে ফলাফলে যা-ই আসুক, তা মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু নির্বাচন ‘মাগুরা মার্কা’ কিংবা কারচুপির হলে সেই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা বিরতিহীনভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ভোটার দুই লাখ ৫৮হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।

নির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও আইনসংগত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পাঁচ হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েনসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ভোটারদের উপস্থিতি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই নজর সবার।

সবশেষে বেলা ১১টার দিকে ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ছোট করে দেখছে না জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতোই এতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার মতো কোনো প্রমাণ পায়নি। কমিশন নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও সবার কাছে দৃশ্যমান করার পাশাপাশি ভোটের লড়াইকে উৎসবে পরিণত করে সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়। কোনো নেতিবাচক খবর আমরা পাইনি। সকাল থেকেই ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসছেন এবং বিভিন্ন বাহিনীর টহলও ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদারকি করা হচ্ছে।