মজুরি পাচ্ছে না মোরশেদ খানের চা বাগান শ্রমিকরা

বকেয়া বিল শোধ না করায় হবিগঞ্জে দেউন্দি চা বাগানের তিনটি কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রায় চার হাজার শ্রমিক।

চা উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক মজুরি থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। মোটা অংকের বিল বকেয়া পড়ায় সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নেতা মোরশেদ খানের এসব চা কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় দেউন্দি টি কোম্পানির তিনটি বাগানেই এখন শুনশান নীরবতা।

চায়ের ভরা মৌসুমে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দৈনিক মজুরিতে কাজ করা প্রায় চার হাজার শ্রমিক। কাজ না থাকায় মজুরিও পাচ্ছেন না তারা।

একজন শ্রমিক বলেন, বিল দিতে পারছে না। লাইন কাটা। আমরা অসহায় অবস্থায় আছি। বন্ধ থাকার থাকার কারণে বকেয়াও পাচ্ছি না। বোনাসও না।

অপর এক শ্রমিক বলেন, আমরা কী দিয়ে চলবো? বাগানের মানুষ বলে আমাদের যে অসহায় ভাবে ফেলে দিয়েছে এটাতো ঠিক নয়। আমরা কীভাবে চলবো? কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

তিন বাগানের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর গ্যাসের বকেয়া ৫০ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না এরই মধ্যে উত্তোলন করা কয়েকশ' মন চায়ের পাতা।

চুনারুঘাটের পাইকপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও চা শ্রমিক নেতা কার্তিক চন্দ্র বাত্তি বলেন, আমরা পতা তুলছি। কিন্তু ব্যবহার করতে পারছি না। ম্যানুফ্যাকচার হচ্ছে না। সেই পাতা ফেলে দেয়া হচ্ছে।

লস্করপুর ভ্যালিতে দেউন্দি টি কোম্পানির মালিক সাবেক মন্ত্রী মোরশেদ খান। বাগান ও কারখানা বন্ধের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা।

গত মাসে দোল পূজার বোনাসও মেলেনি এই বাগানের চা শ্রমিকদের । এছাড়াও ২০২৩ সালে শ্রমিকদের এরিয়ার বিল প্রত্যেকে ১১ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও এখনো চার হাজার টাকা করে বকেয়া রয়েছে।