পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দুই জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল।
নদ-নদীর পানি বাড়ায় সিলেটের বেশ কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফার এ বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে জনজীবনে।
সিলেট শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি বেড়ে তীরের দুইপাশের বাসা-বাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২২টি ওয়ার্ডের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শুধু সিলেট শহরেই আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৮০টি।
সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ছাতক, দোয়ারাবাজাসহ বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও কমলগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন এখন পানির নিচে। বানের জল ঢুকে পড়েছে পৌরসভার বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও দোকানপাটেও।
সিলেটে বুধবার সকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরের তিন ঘণ্টায় হয়েছে আরও ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি।
ভারী বৃষ্টিপাত চলতে থাকায় সহসাই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোণায় প্রধান নদ-নদীর পানিও বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী দুই দিন এ বৃষ্টি আরও বাড়বে। এতে এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।