বন্যায় সিলেট অঞ্চলে ১২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ বন্ধ 

বন্যায় প্লাবিত হওয়া সিলেট অঞ্চলে ১০ থেকে ১২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে পানি নেমে গেলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিলেট বিতরণ জোনের আওতাধীন সব এলাকাই কম-বেশি বন্যা কবলিত হওয়ায় বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক জায়গায় ট্রান্সফরমারের ফিউজ কেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

‘এছাড়া অনেক বসতবাড়ি নিমজ্জিত হওয়ায় পানি বেড়ে মিটার পর্যন্ত চলে আসায় বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।’  

power_sylhet

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এসব কারণে বিতরণ জোনের প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। বন্যার পানি কমলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

আর একইসঙ্গে, সিলেট বিতরণ অঞ্চলের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। 

বিদ্যুৎ বিভাগ সার্বিকভাবে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোথাও ছেড়া বৈদ্যুতিক তার দেখলে কাছের বিদ্যুৎ অফিসে জানানো অনুরোধ করা হলো। 

sylhet_electric

এদিকে প্রাথমিক হিসাবে, সিলেট বিভাগের বন্যায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৯৪ কোটি ৪০ লাখ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৭৩ কোটি ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। 

পাহাড়ি ঢলে উজান নেমে আসা পানি ও প্রবল বর্ষণে সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগ পড়েছে মানুষ। ওই দুই জেলায় প্রায় ১৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি। গবাদি পশু, পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে বন্যার প্রভাবে সিলেটের ৩৩/১১ কেভি ২১ টি উপকেন্দ্রের মধ্যে ৭টির ভেতরে পানি প্রবেশ করছে। তবে পানি এখনো নিরাপদ দূরত্বে থাকায় উপকেন্দ্রসমূহ চালু রয়েছে।

এছাড়া বেশ কয়েকটি ট্রান্সফরমান পোল, মিটার পোল ও বিতরণ লাইনের পোল হেলে পড়েছে।