সিলেটে রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়ে রায়হান আহমদ নিহত হওয়ার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন এবং অপর তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ১৩৬ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক এ রায়ের পাঠ দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে তিনটায় শেষ হয়।

মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আকবর হোসেন ভূঁইয়া বরখাস্তকৃত এসআই এবং বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন টু-ইন-চার্জ ছিলেন। রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন—বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুন অর রশীদ। এছাড়া বরখাস্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও ফাঁড়ি থেকে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবে সহায়তাকারী কথিত সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলায় মোট ৬১ জন সাক্ষীর দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ছয় বছর পর বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের রায় হলো।

আদালতের ঘোষিত এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তারা বলেন, ফাঁড়ির ভেতরে পুলিশি হেফাজতে নৃশংস নির্যাতনের মাধ্যমে রায়হানকে হত্যার যে জঘন্য অপরাধ ঘটেছে, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা অন্তত দুই আসামির খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিহত রায়হানের মা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচার পেলেও রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে একটি বড়ো শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। কারণ, আসামিদের অধিকাংশজনই জামিন নিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছে। প্রধান আসামিসহ পলাতক সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার বা দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের আদেশ কার্যকরের আকুল দাবি জানান তিনি।