মৃত্যু জীবনকে থামিয়ে দিলেও, জগৎ চলতে থাকে তার নিজের নিয়মে। আর তাইতো রামপুরায় আকস্মিক এক বাস দুর্ঘটনা দুর্জয়ের জীবনের ঘড়ি থামিয়ে দিলেও মৃত্যুর আগে দেয়া পরীক্ষার ফল চলে এলো স্বাভাবিক নিয়মেই।
গত ২৯ নভেম্বর রামপুরায় বাসচাপায় মারা যায় মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়। এ ঘটনায় নতুন করে শুরু হয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, যাতে অংশ নেয় তার মতো শিক্ষার্থীরাই।
দুর্জয়ের মৃত্যুর পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্জয় নিজের মানুষগুলোকে নিয়ে ভবিষ্যৎ সাজানোর যে কথা বলতো, তাই বারবার স্মরণ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায় তার বাবা আবদুর রহমানকে।
দুর্জয় বলতো, ‘বাবা, আমি পড়াশোনা শেষ করে ব্যাংকে চাকরি করব। চাকরি পেলে তোমাকে আর কষ্ট করে চায়ের দোকান করতে হবে না’। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি দুর্জয়ের। ঘাতক বাস নিমিষেই থামিয়ে দিয়েছে তার জীবন।
আরও পড়ুন: এসএসসি ফলের পাঁচদিন পরেই একাদশে ভর্তি শুরু
গতকাল এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে এসেছে দুর্জয়েরও এসএসসির ফলাফল। জিপিএ ৪.১৭ পেয়ে রামপুরার একরামুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে সে উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানান মাঈনুদ্দিনের শিক্ষকেরা।
রাজধানীর রামপুরার তিতাস রোডে নিজের চায়ের দোকানে বসে ছেলের ফলাফল নিয়ে বিলাপ করতে থাকেন আবদুর রহমান। সংসারের হাল ধরে অভাব কাটিয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের যে স্বপ্ন পুরো পরিবার দেখেছিল সেই স্বপ্ন শুধু এক হাহাকারের নাম হয়েই রয়ে গেলো।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার খোঁজে ১৫ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থেকে ঢাকায় আসেন দুর্জয়ের বাবা আবদুর রহমান। বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের কাজ করে সংসার চালান তিনি।
অভাবের কারণে বড় ছেলে মনির হোসেনের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও পরিবারের সবাই মিলে স্বপ্ন দেখেছিলেন দুর্জয়কে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার। কিন্তু সেই স্বপ্নও কেড়ে নিয়েছে ঘাতক বাস।
একাত্তর/টিএ