শাবিপ্রবির তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মাথার ওপর এখনো ঝুলছে মামলা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঐ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। 

ছাত্রদের অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও আদালত থেকে এখনো নিস্পত্তি হয়নি মামলা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমান সময়ে ভিসির প্ররোচনায় বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে বৈষম্যের স্বীকার হতে হচ্ছে তাদের। তবে শিক্ষাথীরা চাইলে সব বিষয়ে সমাধানের হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি। 

২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ঐ হলের ছাত্রীরা। তিনদিন পর ১৬ জানুয়ারি বেলা পৌনে ৩ টার দিকে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে ফেলে শিক্ষার্থীরা। ঐ সময় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনকে মুক্ত করে বাসবভনে ফিরিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে পুলিশ। এ

রপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে এক দফা আন্দোলন শুরু করে শাবিপ্রবির  শিক্ষার্থীরা। মিছিল-মিটিং থেকে আন্দোলন রুপ নেয়ে অনশনে, চলে দীর্ঘ এক মাস।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের আসামী করে জালালাবাদ থানায় মামলা করে সিলেট মহানগর পুলিশ। এরপর ঐ ঘটনায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদারকে সভাপতি ও তৎকালীন রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। 

ঘটনার দুই বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি ৮ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। 

এদিকে দুই বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়া এবং পুলিশি মামলা আদালত থেকে নিস্পত্তি না হওয়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি আন্দোলনে অংশ নেয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে বৈষম্যের স্বীকার হতে হচ্ছে তাদের। 

সিলেট মেট্রপলিটন পুলিশের ডিসি  আজবাহার আলি শেখ জানান, ঐ দিনের ঘটনায় কোন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালতে গত বছরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জালাবাদ থানা পুলিশ, যা বর্তমানে বিচারাধীন আছে আদালতে। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বলছে শিক্ষার্থীরা আগ্রহী হলে সব বিষয় সমাধান করবেন উপাচার্য। 

এদিকে দ্রুততার সাথে শিক্ষার্থীদের উপর থেকে সব ধরনের মামলা প্রত্যাহার সহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী প্রকৃত দোষীদের বের করে বিচারের সম্মুখীন করার দাবী জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।