কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় আবাসিক হলগুলোও বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত অনলাইনে অনুষ্ঠিত ৯২তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সমাধানে আলাপ-আলোচনা করে দুটি কমিটি গঠন করা হবে। একটি কমিটি হবে শিক্ষকদের দাবিদাওয়া নিয়ে, অন্যটি করা হবে ২৮ এপ্রিল যে ঘটনা ঘটেছে, সে ঘটনা তদন্তের জন্য।

আবাসিক হল কেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে এক সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, উপাচার্য আশংকা করছেন আবাসিক হলগুলোতে প্রচুর অস্ত্র ঢুকছে। শিক্ষার্থীদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। এতে এখানে অন্য রকম ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে দাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের।

তিনি বলেন, উপাচার্য নিজেই যখন সন্ত্রাসী তখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার দয়া মায়া থাকে না৷ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যখন তার বিরুদ্ধে গিয়েছে তখন তার নৈতিকভাবে কোনো অবস্থান থাকে না। তার প্রশাসনের সকল সহকর্মীরাই পদত্যাগ করেছেন। এখন তিনি বুঝতে পেরেছেন তার পতন শুধুই সময়ের ব্যপার। তাই তিনি সময়ক্ষেপণের অপচেষ্টা করেছেন। উপাচার্য নিজেকে বাঁচানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করেছেন। ক্যাম্পাসে শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা থাকবেন। কেউ যাবেন না।

মেহেদী হাসান বলেন, উপাচার্য হল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়ে বহিরাগত ব্যক্তিদের হলে ওঠাতে চান। ক্যাম্পাসে ঢোকাতে চান। আমরা সেটা মেনে নেব না। আমাদের সন্তানেরা হলে থাকবে। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করতে পারেন না তিনি (উপাচার্য)। নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে তিনি ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছেন।

গত কিছুদিন ধরে সাত দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত ২৫ এপ্রিল উপাচার্য, ট্রেজারার এবং প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এ সময় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের কার্যালয়ে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

রোববার সেই তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় উপাচার্য অধ্যাপক এ এফ এম আবদুল মঈন প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করতে গেলে শিক্ষক সমিতির শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের ঘোষণা করে। এ ঘটনায় উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে এক দফা দাবি ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।

যে সাত দফা দাবিতে শিক্ষক সমিতি আন্দোলন করছিলো সেগুলো হলো- উপাচার্যের উপস্থিতিতে শিক্ষকদের ওপর হামলার বিচার, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের অপসারণ, ঢাকার গেস্টহাউস অবমুক্তকরণ, অধ্যাপকদের পদোন্নতি, আইন মোতাবেক বিভাগীয় প্রধান ও ডিন নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে আইন বহির্ভূত অবৈধ শর্ত আরোপ নিষ্পত্তিকরণ, ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় বিতর্কিত শিক্ষাছুটি নীতিমালা রহিত করা এবং ৮৬তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করা।

উপাচার্য, শিক্ষক এবং ছাত্রলীগের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে শিক্ষক সমিতি উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষ-প্রক্টরসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন এবং তাদের পদত্যাগ দাবি করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম বর্জন করার ঘোষণা দেন। হাতাহাতির ঘটনায় উপাচার্যপন্থী ও শিক্ষক সমিতি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।