জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ‘জাহাঙ্গীরনগর শাটডাউন’ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। খুলে দেয়া হয়েছে রেজিস্ট্রার ভবনের তালা। তবে ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেছেন, রাচি হত্যার ঘটনায় জড়িত অটোরিকশা চালককে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
সারাদেশে যখন আলোচনায় অটোরিকশা বন্ধের ইস্যু, তখন গত ১৯ নভেম্বর নিজ ক্যাম্পাসে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ হারান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আফসানা করিম রাচি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ছিলো, গেলো শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যেই জড়িত অটোরিকশা চালককে গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় রোববার ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে জাহাঙ্গীরনগর শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
রোববারের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসসহ ৩৭টি একাডেমিক ভবনে তালা দিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এসময় অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ মোট ১১ দফা দাবি পেশ করেন তারা।
পরে দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ, শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। পরে তারা তদন্তের অগ্রগতি অবহিত করেন আন্দোলনরতদের।
এসময় প্রায় ঘণ্টাখানেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা আশ্বাস দেন যে, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে মঙ্গলবারের মধ্যে ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে রাচির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত অটোরিকশা চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
পরে বেলা দেড়টা নাগাদ শাটডাউন কর্মসূচি থেকে সরে আসেন শিক্ষার্থীরা। খুলে দেয়া হয় রেজিস্ট্রার অফিসের মূল ফটকের তালা। তবে ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
অন্যদিকে দাবি পূরণ না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।