এইচএসসির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেড় দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো বিপর্যয় ঘটেছে। গেলো দেড় দশকের মধ্যে এবারই সর্বনিম্ন—গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশে। একই সঙ্গে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলের এ চিত্র তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনের পরপরই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে ফলাফল প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ৫ লাখ আট হাজার ৭০১ জন; অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ হাজার ৫৯২ জন। টানা দুই বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষায় এ ফল বিপর্যয়ের চিত্র দেখা গেলো।

চলতি বছর সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

পাসের হারে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বোর্ড (৬১.৮০%) এবং সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে বরিশাল বোর্ড (৪৪.৮৪%)।

ঢাকা বোর্ড: পাসের হার ৬১.৮০%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬,৭১৪ জন।

চট্টগ্রাম বোর্ড: পাসের হার ৫২.০৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২,৯২৯ জন।

ময়মনসিংহ বোর্ড: পাসের হার ৫১.৪৪%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২,১৩৭ জন।

সিলেট বোর্ড: পাসের হার ৫০.৯০%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১,২০৪ জন।

কুমিল্লা বোর্ড: পাসের হার ৪৮.০৪%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১,৩১৩ জন।

দিনাজপুর বোর্ড: পাসের হার ৪৫.৯৮%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২,৯৫৩ জন।

রাজশাহী বোর্ড: পাসের হার ৪৫.০৬%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪,৫২০ জন।

যশোর বোর্ড: পাসের হার ৪৪.৯২%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩,২২৮ জন।

বরিশাল বোর্ড: পাসের হার ৪৪.৮৪%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন।

এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ (জিপিএ-৫: ৩,২৫০ জন) এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯.৪৩ শতাংশ (জিপিএ-৫: ৮৮৬ জন)।

ফেল করা চার লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ সুযোগ

সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্বীকার করেন যে, প্রকাশিত এই ফলাফল সন্তোষজনক নয়। তবে এতে কোনো কারিগরি বা মূল্যায়নজনিত ত্রুটি আছে কিনা, তা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন নিষ্পত্তির পর পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি।

এবারের পরীক্ষার একটি অন্যতম সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া চার লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীকে আগামী এক মাসের মধ্যে শুধু অনুত্তীর্ণ বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এর ফলে তাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হবে না। তবে সার্বিক ফল বিপর্যয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির নূন্যতম যোগ্যতার শর্তে কোনো ছাড় দেওয়া হবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের এখতিয়ার।

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত দুই জুলাই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের পরীক্ষা শেষ করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগে। সবমিলিয়ে দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।