জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশের পাশপাশি উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, জাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বহিষ্কৃত, ছাত্রত্ব বাতিল ও মৃত শিক্ষার্থীরা রয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, অনেকটা তড়িঘড়ি করে এই ভোটার তালিকা করা হয়েছে। তবে, প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, কিছুটা ত্রুটি থাকলেও তা দ্রুত সংশোধন করা যাবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন আবু নূর। চলতি বছরের ৩০ মে ফুসফুসজনিত রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এই শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে।
গেলো বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার দায়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করে প্রশাসন।
জাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বহিষ্কৃত অন্তত চার শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ নম্বর হল ভোটার তালিকায় চিরতরে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা রিজওয়ান রাশেদ এবং তামিম হোসেন।
ভোটার তালিকায় নানা অসংগতির বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ছাত্র সংগঠনের নেতারা ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।
এনিয়ে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক এ একে এম রাশিদুল আলম জানান, ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকেন, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় জানালে সেটা তারা সংশোধন করবেন। একইভাবে বহিষ্কৃতরা যদি তালিকায় থেকে থাকে, তাদেরকেও বাদ দেয়া হবে।
রোববার রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী ২১টি আবাসিক হলে মোট ভোটার ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ৬ হাজার ১০২, আর ছাত্রী ভোটার ৫ হাজার ৮১৭।
এর আগে গত ১০ আগস্ট রাতে খসড়া ভোটার তালিকা ও খসড়া আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে যেসব শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় আসেনি তাঁদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়। যাচাই–বাছাই শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ও চূড়ান্ত আচরণবিধি প্রকাশ করেছে কমিশন।