সুরের অসীমে বিলীন হলেন বাপ্পি লাহিড়ী

মানুষের ভালোবাসা-শ্রদ্ধা আর শোক ও স্মরণে নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে সূরের অবিনশ্বর জগতে পাড়ি জমালেন উপমহাদেশের সঙ্গীত পিপাসুদের কাছে ‘ডিস্কো কিং’ হিসাবে পরিচিত প্রখ্যাত গায়ক ও সুরকার বাপ্পি লাহিড়ী।

গত প্রায় একমাস ধরে বাপ্পি লাহিড়ী বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সোমবারই বাড়ি ফেরেন বাপ্পি। কিন্তু মঙ্গলবারই আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। 

পরিবারিক চিকিৎসক তাঁকে আবারও ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সেই হাসপাতালেই অবস্ট্রাকক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় মৃত্যু হয় তাঁর।

বুধবার সারাদিন তাঁর বাড়িতেই রাখা ছিল মরদেহ। সেখানে শ্রদ্ধা জানান অগণিত অনুরাগী, বিশিষ্টরা। অপেক্ষা ছিলো ছেলে বাপ্পার। সপরিবারে বৃহস্পতিবার ভোরবেলা আমেরিকা থেকে ফিরেছেন তিনি। তার পরেই শুরু হয় শেষযাত্রা। 


জুহুর লাহিড়ী হাউসে প্রিয় বাপ্পিদাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন কুমার শানু, শান, কাজল, আলকা ইয়াগনিক, রাকেশ রোশন, পুনম ধীলেনসহ আরো অনেকে। 

সকালে বের হয় ফুলে সাজানো গাড়ি। সামনে বাপ্পির বিশাল এক ছবি। ট্রাকের ভেতর দেহ ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিশিষ্ট থেকে পরিবারের ঘনিষ্ঠ মানুষেরা। 

শেষ যাত্রায় তাঁর গায়ে সোনা ওঠেনি বটে, কিন্তু কালো চশমায় চোখ ঢাকা হয়েছে তাঁর। জীবনের শেষ বেলা পর্যন্ত যে কালো চশমা তাঁর সঙ্গী ছিল, সৎকারের আগেও সেটি তাঁর সঙ্গেই।

মেয়ে রিমা বারবার ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। তাঁকে সামলে রাখেন আত্মীয়রা। রাস্তার দু’ই পাশে তখন অগণিত ভক্তরা দাড়িয়ে ছিলেন তাদের প্রিয় বাপ্পিদাকে এক নজর দেখার জন্য। 

মানুষের ভিড় ঠেলেই এগিয়ে যায় বাপ্পি লাহিড়ীর মরদেহ বহনকারি গাড়ি। ভিল পার্লের শ্মশানে যখন শববাহী বাড়ি পৌছায় তখন সেখানে ঢল নামে বিশিষ্টদের।

আলকা ইয়াগনিক, ইলা অরুণ থেকে শুরু করে ছিলেন অভিনেতা বিদ্যা বালান, শক্তি কাপুর, রূপালি গাঙ্গুলি, বিন্দু দারা সিং, গায়ক অভিজিৎ, মিকা সিং, টি–সিরিজের মালিক ভূষণ কুমার। 


মানুষের চোখে পানি আর নিঃশব্দ শোকের মাঝেই পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যেই মুখাগ্নি করেন ছেলে বাপ্পা। জ্বলে উঠলো চিতা। অসীমে বিলীন হয়ে গেল সুরকারের নশ্বর শরীর।

বলিউডে ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘চলতে চলতে’, ‘শরাবি’ আর বাংলায় ‘অমর সঙ্গী’, ‘আশা ও ভালবাসা’, ‘আমার তুমি’, ‘অমর প্রেম’ এর মতো জনপ্রিয় ও সুপারহিট ছবিতে সুর দিয়েছেন। গেয়েছেন বহু গান। ২০২০ সালে তাঁর শেষ গান ছিলো ‘বাগি-৩’ এর। 


একাত্তর/ এনএ