‘গজল সম্রাট’ মেহেদী হাসানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ধ্রুপদী সংগীত, গজল এবং চলচ্চিত্রের নেপথ্যের এই সংগীত শিল্পী ২০১২ সালের ১৩ জুন প্রয়াত হন। তবে গজল গেয়েই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পান।
বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার এসেছেন ওস্তাদ মেহেদী হাসান। রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে দ্বৈত সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
মেহেদী হাসানের কণ্ঠে বাংলা গানের মধ্যে ‘হারানো দিনের কথা’, ‘এত ভালো লাগে কেন’, ‘ঢাকো যত না নয়ন’, ‘তুমি যে আমার ভালোবাসা’ উল্লেখযোগ্য।
স্বীকৃতি হিসেবে মেহেদী হাসান পাকিস্তানের ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’, ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’, ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ এবং নেপালের ‘গোর্খা দক্ষিণা বাহু’ খেতাব পান।
মেহেদী হাসান ১৯২৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ ভারতের লুনায় জন্ম নেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর, ২০ বছর বয়সী হাসান এবং তার পরিবার পাকিস্তানে চলে যান। পরিবারটি গিয়ে ওঠেন চিচাওয়াতনীর একটি গ্রামে তার ফুফুর বাড়িতে।
সেখানে গিয়ে তারা প্রচণ্ড আর্থিক কষ্ট ভোগেন। হাসান প্রাথমিকভাবে কাছাকাছি চিচাওয়াতনীতে একটি সাইকেলের দোকান মুঘল সাইকেল হাউসে কাজ শুরু করেন এবং পরে একটি গাড়ি এবং ডিজেল ট্রাক্টর মেকানিক হন। আর্থিক অনটন সত্ত্বেও তিনি প্রতিদিন তার গানের চর্চা অব্যাহত রাখতেন।
১৯৫৭ সালে হাসানকে আবারও রেডিও পাকিস্তানে গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে একজন ঠুমরি গায়ক থেকে নিজেকে গজল শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
হাসান মৃত্যুর আগে কয়েক বছর ধরে ফুসফুসের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন। মারা যাওয়ার ১২ বছর আগেও তিনি পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ফুসফুস, মূত্রনালীর এবং বুকের রোগের জন্য চিকিৎসা করিয়েছিলেন। ২০০০ সালের শেষের দিকে ভারতের কেরালায় থাকাকালীন তিনি প্রথম স্ট্রোকের শিকার হন।
আরও পড়ুন: চীনে খেলতে গিয়ে বিমানবন্দরে আটক মেসি
২০০৫ সালে তাকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়।
২০১২ সালের ১৩ জুন করাচির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মারা যান এই গজল সম্রাট।
একাত্তর/এসি