নিলামে উঠছে জর্জ হ্যারিসনের মায়ের লেখা ২৫টি বিরল চিঠি

রক ব্যান্ড বিটলসের কিংবদন্তী গায়ক জর্জ হ্যারিসনের মা এক চিঠিতে লিখেছেন, হ্যারিসনের এক কন্সার্টে ভক্তদের চিৎকারে তিনি প্রচণ্ড বিরক্ত হয়েছিলেন।

লুইস হ্যারিসন লিখেছেন, ১৯৬৩ সালে বিটলসের একটি কন্সার্টে তিনি তার ছেলে এবং ছেলের সতীর্থদের গান উপভোগ করতে গিয়েছিলেন। ভক্তদের চিৎকারে সে কন্সার্টে বিটলসের গানের আওয়াজ ঠিকভাবে শোনা যাচ্ছিলোনা।

সোমবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিটলস ফ্যান জ্যানেট গ্রের ২৫টি চিঠি আগামী ২৬ আগস্ট নিলামে তোলা হবে, যার মধ্যে এটি একটি।

মা লুইস হ্যারিসনের হাত ধরেই জর্জ হ্যারিসনের সংগীত জীবন শুরু হয়েছিলো। লুইস তার ছেলে জর্জকে প্রথম গিটার কিনে দিয়েছিলেন। লুইস জর্জের ভক্তদের হাজার হাজার চিঠির উত্তর দিতেন।

লুইস ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত জ্যানেটের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। কারণ সেসময় বিটলস বিশ্বব্যাপী প্রচুর জনপ্রিয় ছিলো।

নিলামে তোলা এক চিঠিতে লুইস লিখেন, তথাকথিত ভক্তরা খুব বাজেভাবে চিৎকার করছিলো। আমি একজন নারী হিসেবে সে সময় লজ্জিত হয়েছিলাম।

এই চিঠিটি ১০০ থেকে ১৫০ পাউন্ডে বিক্রি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


চিঠিতে তিনি কিশোরী জ্যানেটের উদ্দেশে লিখেন, আমি আশা করি তুমি মনে রাখবে তোমার সেরা বন্ধু তোমার মা। যদি তোমাদের মধ্যে কোনো কারণে মনমালিন্য হয় তবুও। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমার চার সন্তানের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো।

আরেকটি চিঠিতে তিনি তার বিখ্যাত ছেলের বিষয়ে কিছু কথা বলেছিলেন, কীভাবে ১৯৬৪ সালে জর্জ একটি ভয়ানক গাড়ি দুর্ঘটনা থেকে বিনা আঘাতে বেঁচে ফিরেছিলেন, এবং দুর্ঘটনার এক বছর পর যখন জর্জের সাথে দেখা হয় তখন কেমন ছিলো তার মাতৃসুলভ আচরণ।

চিঠিতে তিনি আরও লিখেন, কিভাবে ভক্তদের চিঠির উত্তর দেয়া কঠিন হয়ে উঠতো। তিনি জ্যানেট গ্রেকে লিখেন, আমি শুনে খুশি হয়েছি যে তোমার ছেলে বন্ধু আছে। আশাকরি তুমি জিইসিতে পাশ করবে। আমি খুবই ব্যস্ত। আমাকে কমপক্ষে তিন হাজার চিঠির উত্তর দিতে হবে, তাই এখন বিদায়।

১৯৬৬ সালে ইউরোপে ছুটি কাটানোর পর মিসেস হ্যারিসন লিখেছিলেন, আমি আশা করছি ছেলেরা আমেরিকায় একটি সফল সফর করবে।

সেবার বিটলসের সফরটি সত্যিই স্মরণীয় ছিলো। ১৯৬৯ সালে ব্যান্ডটি ভেঙে যাওয়ার পরও জর্জ হ্যারিসন একজন সফল সংগীতশিল্পী ছিলেন।


জর্জ হ্যারিসনের গান 'ডিপ ব্লু' তার মায়ের অসুস্থতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছিলো বলে শোনা যায়। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সমর্থনে তার ১৯৭১ সালে একক গানের বি-সাইড হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

জর্জ হ্যারিসন ২০০১ সালে ৫৮ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান।


একাত্তর/পিএজে