আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দেড়মাস পর প্রথমবারের মতো শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে এসেছিলেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা পাল জ্যোতি। কিন্তু সহকর্মীদের বাধার মুখে সেখানে বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না। তাকে শিল্পকলা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।
গত বছরের মার্চে অভিনয়শিল্পী জ্যোতিকা পাল জ্যোতিকে শিল্পকলা অ্যাকাডেমির পরিচালক হিসেবে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়।
গত পাঁচ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তাকে আর কখনোই শিল্পকলায় দেখা যায়নি। মঙ্গলবার অনেকটা হঠাৎ করেই অফিসে যান তিনি।
তবে অফিসে প্রবেশের পরই উত্তেজিত সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন জ্যোতি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে শিল্পকলা একাডেমি থেকে চলে যান। এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে জ্যোতি অফিসে যাওয়ায় অবাক হয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর আইরিন পারভীন লোপা।
তিনি বলেন, কীভাবে অফিসে আসবেন তিনি? যিনি স্বৈরাচার সরকারের হয়ে কথা বলেছেন। যারা সরাসরি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত করেছেন, যারা রক্ত ঝরার জন্য দায়ী, তাদের আমরা সহকর্মী হিসেবে চাই না।
এদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আইরিন বলেন, তিনি অফিসে ঢুকেই দেখেন বিভিন্ন বিভাগের সহকর্মীদের জড়ো হতে দেখে জ্যোতি দরজা বন্ধ করে দেন।
এরপর তারাই জ্যোতিকে অফিস ছাড়তে বলেছেন বলে জানান আইরিন পারভীন। বলেন, আমরাই তাকে বলেছি অফিস থেকে চলে যেতে বলি।
‘তিনি বলেছেন, এখনো নিজেকে সরকারের নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা ভাবছেন। তার অধিকার রয়েছে অফিসে আসার। যে সরকার নেই, সেই সরকারের দাপট দেখাচ্ছেন। আমরা তাকে সসম্মানে চলে যেতে বলেছি,' যোগ করেন আইরিন পারভীন লোপা।
তিনি আরও বলেন, কারণ, জ্যোতি 'আলো আসবেই' নামে একটি গ্রুপে যুক্ত হয়ে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে কথা বলেছেন। এমন লোক আমরা দেখতে চাই না।