বিশ্ব ফ্যাশন জগতের অন্যতম প্রধান আসরের নাম 'নিউ ইয়র্ক মেট গালা'। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্টের কস্টিউম ইন্সটিটিউটের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় এই ব্যতিক্রমী ফ্যাশন ইভেন্টের।
এই আয়োজনে কিম্ভূতকিমাকার বিভিন্ন পোশাকে হাজির হন হলিউডের নামীদামী সব তারকারা। তাক লাগিয়ে দেন দর্শকদের।
এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে অদ্ভুত পোশাক পরে নজর কেড়েছেন অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্কের উঠতি তারকা রাজনীতিবিদ পর্যন্ত। আর এ বছরের আসরের থিম হলো 'ইন আমেরিকা: অ্যা লেক্সিকন অফ ফ্যাশন'।
এবারের আসর উপস্থাপনা করছেন জনপ্রিয় পপ শিল্পী বিলি আইলিশ, টেনিস তারকা নাওমি ওসাকা, অভিনেতা টিমোথি শ্যালামে এবং কবি অ্যামান্ডা গোরম্যান।
বিলি আইলিশ এসেছেন পঞ্চাশের দশকের আবেদনময়ী অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো'র সাজে। সোনালি চুল আর রাজকুমারীর গাউনে চেনাই যাচ্ছে না সচরাচর সবুজ চুলে দেখা দেয়া আইলিশকে।
টিমোথি শ্যালামে পরেছিলেন হায়দার অ্যাকারম্যানের ডিজাইন করা সাদা স্যুট। ফ্যাশন বোদ্ধারা এর নাম দিয়েছেন 'ফরমাল সোয়েটপ্যান্টস'। লকডাউনের জীবনে সারাদিন বাসায় সোয়েটপ্যান্ট পরে কাটানোর দিনগুলো থেকেই এ পোশাকের আইডিয়া এসেছে কিনা কে জানে!
ফ্যাশন জগতে অহরহ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তোলা কিম কারদাশিয়ানের পোশাকই ছিল সম্ভবত সবচেয়ে অদ্ভুতদর্শন। আপাদমস্তক কালো কাপড়ে ঢাকা কিমের গায়ে ছিল কালো রঙয়ের টাইট ফিটিং জামা। পেছনে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে লম্বা কালো ট্রেইল।
কালো হিল জুতায় কিমের এই লুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর মধ্যেই জন্ম দিয়েছেন অসংখ্য 'মিম'-এর। তার পাশে শীঘ্রই সাবেক হতে যাওয়া স্বামী কানিয়ে ওয়েস্টও পরেছিলেন ঢিলেঢালা কালো হুডি আর প্যান্ট।
র্যাপ তারকা লিল নাস এক্সের ফ্যাশনের ভক্তের সংখ্যাও কম নয়। রাজকীয় নাস পরে এসেছিলেন সোনালি রঙের জমকালো রোব।
আর তার নিচে ছিল ধাতব সোনালি রঙয়ের বর্ম। এটি ডিজাইন করেছে ফ্যাশন হাউজ ভারসাচি।
তবে এখানেই শেষ নয়। বর্মের নিচে আছে ঝলমলে সোনালি রঙের বডি স্যুট।
গেম অফ থ্রোন্স তারকা মেইজি উইলিয়ামস পরে এসেছিলেন নিজের ডিজাইন করা কালো গাউন। 'দ্যা ম্যাট্রিক্স' চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত এই জামার সাথে ছিল মানানসই মেকআপ।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিয়া কর্টেজ তার ফ্যাশন সেন্সের জন্য তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়। মেট গালায় তার পোশাকের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে ভুল করেননি তিনি। সাদা মারমেইদ গাউনের পেছনে টকটকে লাল কালিতে লেখা ছিল 'ট্যাক্স দ্যা রিচ'। আমেরিকার বৈষম্যমূলক করনীতির বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার কর্টেজ। সেই বার্তাই যেন পৌঁছে দিতে চাইলেন দেশটির রাজনীতি সচেতন তরুণ সমাজের কাছে।
একাত্তর/এসজে