বলিউডে গ্যাংস্টারদের রক্তক্ষয়ী হুমকি আর ত্রাসের রাজত্ব যেন কোনোভাবেই থামছে না! মুম্বাইয়ের অভিজাত জুহু এলাকায় বলিউড তারকা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অডিও বার্তা। কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম করে সরাসরি সালমান খান এবং তাঁর সাথে কাজ করা সh বলিউড তারকাকে চরম হুমকি দেওয়া হয়েছে!
গত রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহুতে একটি ফুটবল মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে থাকা তিন বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। সৌভাগ্যবশত, অভিনেতা টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও এই হামলায় তাঁর গাড়িচালক হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
এই ঘটনার ঠিক পরপরই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে একটি অডিও ফাইল ভাইরাল হয়, যেখানে অনিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে দাবি করে হামলার সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করেন। ওই অডিও বার্তায় সোজা জানিয়ে দেয়া হয়, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নির্দেশ অমান্য করে সালমান খানের সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণেই মূলত টাইগার শ্রফকে এই টার্গেট করা হয়েছে।
অডিও নোটে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় বলতে শোনা যায়, বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যে বা যারা আমাদের বা আমাদের নিয়মের বাইরে গিয়ে সালমান খানের সাথে কাজ করবে, আমরা তাদের খতম করে দেব। এটি আমাদের প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা। এই সালমান খান হলো দাউদ ইব্রাহিমের কুকুর, আর দাউদের মতো কুকুর আমাদের ঘরেই পোষা আছে!
বার্তাটিতে আরও বলা হয়, আমরা এর আগে টাইগারকে ফোন করে বুঝিয়েছিলাম, কিন্তু সে কথা শোনেনি। তাই আজ তাকে আমরা যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিলাম। শুধু তাই নয়, এর আগে সালমান খানকে উদ্দেশ্য করে গ্যাংটি এও হুমকি দিয়েছিল, সালমান যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চান, তবে তাঁর পরিবারের কাউকেই, এমনকি তাঁর পোষা কুকুরগুলোকেও ছাড় দেওয়া হবে না!
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণপক্ষী বা কালো হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। সেই জেদেই গত বছর ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা জানিয়েছিল, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হিটলিস্টে প্রধান ১০ জন টার্গেটের একদম শীর্ষে রয়েছেন সুপারস্টার সালমান খান। তাঁকে হত্যার হুমকি ও ভয় দেখানোর এই ধারাবাহিকতায় এবার টাইগার শ্রফের ওপর হামলার মতো ঘটনা পুরো বলিউড পাড়ায় মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে প্রশাসন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরাসরি মুম্বাই পুলিশ কমিশনারের সাথে কথা বলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিয়েছেন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে তদন্তের গতি বাড়িয়ে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি