কিম কার্দাশিয়ানের মূলধারার অভিনয়ে আত্মপ্রকাশের স্বপ্নটা যেন রূপ নিয়েছিল চরম এক ফ্লপ নাটকে! গত বছর মুক্তি পাওয়া তাঁর আইন বিষয়ক ড্রামা ‘অল’স ফেয়ার’-কে সমালোচনায় তুলোধোনা করেছিলেন সমালোচকরা। কিন্তু রসিকতা আর রহস্যের খেলা বুঝি একেই বলে, সমালোচকদের এই ট্রোল আর ধুয়ে ফেলার চোটে দর্শকরা কৌতূহলী হয়ে এমনভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন, শো-টি শেষ পর্যন্ত ভিউয়ারশিপের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিল!
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও কোটিপতি ব্যবসায়ী হিসেবে সুপরিচিত ৪৬ বছর বয়সী কিম কার্দাশিয়ান সম্প্রতি বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা স্বীকার করেছেন, সব ট্রোল আর সমালোচনাকে নিজের পক্ষে কাজে লাগানো ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনো পথ ছিল না।
রসিকতা করে তিনি বলেন, আমরা তো ভেবেছিলাম বেশ গম্ভীর ও সিরিয়াস কোনো আইনি ড্রামা বানাচ্ছি! কিন্তু দর্শকরা সিরিয়াস ড্রামার বদলে শো-টিতে খুঁজে পেয়েছেন চরম কমেডির খোরাক। সারা পলসন এবং গ্লেন ক্লোজের মতো সহ-অভিনেত্রীদের মুখে অদ্ভুত সব পোশাক আর ধারালো সংলাপের বদৌলতে নাটকটি রাতারাতি স্থান করে নিয়েছে ‘ক্যাম্প ক্লাসিক’-এর তালিকায়।
সমালোচকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিম হাসিমুখে বলেন, "যেখানে প্রতিনিয়ত সমালোচনা শুনতে হয়, সেখানে আপনার করারই বা কী থাকে? হয় ভেঙে পড়ে কান্নাকাটি করবেন, না হয় মাথা নিচু করে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করবেন। আমরা এখন পুরোদস্তুর কমেডি শো।
বিখ্যাত শো-রানার রায়ান মারফির তৈরি এই সিরিজটি সমালোচনা সহ্য করলেও হুলু নেটওয়ার্কের গত তিন বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা ক্রাইম-ড্রামা সিরিজ হয়ে ওঠে এবং সাথে সাথেই দ্বিতীয় সিজনের অনুমোদন পায়।
প্রথম সিজনে কার্দাশিয়ানসহ নাওমি ওয়াটস এবং নিসি নাশ-বেটসের মতো নামজাদা তারকাদের দল নিয়ে নির্মিত ড্রামাটি বাজে অভিনয় আর কিমের ‘কাষ্ঠল’ এক্সপ্রেশনের জন্য শিরোনাম হয়েছিল। এমনকি 'দ্য টাইম্স' একে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে টিভি ড্রামা হিসেবেও আখ্যা দিতে ছাড়েনি।
কিন্তু কিমের পুরো ক্যারিয়ারই গড়ে উঠেছে এমন সব সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে, মেট গালার মতো আভিজাত্যপূর্ণ মঞ্চে একসময় উপেক্ষিত থাকা থেকে সেরা আকর্ষণে পরিণত হওয়া কিংবা নিজের সেপওয়্যার ব্র্যান্ডকে ৫ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্যে রূপ দেওয়া, সবই তাঁর জেদের ফসল।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিনোদন জগতের স্পটলাইটে থাকা কিম জানান, তিনি জীবনে এমন সব কঠিন কাজই করতে ভালোবাসেন যা থেকে কিছু শেখা যায়। রিয়েল লাইফেও আইনজীবী হওয়ার পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন চার সন্তানের এই জননী। প্রথম সিজন চলাকালীন বার কাউন্সিলের শিক্ষানবিস পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও হাল ছাড়ার পাত্রী নন তিনি।
তবে সম্প্রতি আইনি পরামর্শের জন্য এআই ব্যবহারের কথা স্বীকার করার পর তিনি জানিয়েছেন, সাফল্য না পাওয়া পর্যন্ত নিজের পড়াশোনার বিষয়টি এবার কিছুটা গোপনে রাখবেন। ব্রিটিশ ফর্মুলা ওয়ান রেসার লুইস হ্যামিল্টনের সাথে বর্তমানে নতুন ভালোবাসার জোয়ারে ভাসতে থাকা কিম বলেন, মানুষ যা ভাবতে চায় ভাবুক, আমি ঠিকই পাশ করে সবাইকে সশব্দে জানান দেব।
সিরিজের দ্বিতীয় সিজনে কিমের অভিনয়ে চমকপ্রদ উন্নতি দেখা যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সহ-প্রযোজক ও অভিনেত্রী নাওমি ওয়াটস। কিমও হাসতে হাসতে যোগ করেন, আমি তো জন্মগতভাবেই দারুণ রসিক! সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হলেও সফল ও ফ্যাশনেবল নারীদের এই ভিন্ন রূপের গল্পকে স্ক্রিনে তুলে ধরতে পেরে কিম নিজেকে সার্থক মনে করছেন। বুদ্ধিমান আর গ্ল্যামারাস হওয়া যে একই সাথে সম্ভব, অল’স ফেয়ার যেন সেটিই প্রমাণ করতে চলেছে ট্রোল আর রেকর্ড ভিউয়ের নতুন রসায়নে!