আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধর, অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও ‘হত্যার হুমকি’ দেয়ার গুরুতর অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে (আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফেসবুক পোস্টে জাতীয় সংগীত ‘অবমাননার’ দায়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার ডাকযোগে এই উকিল নোটিশ পাঠান। পরীমনি ছাড়াও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরীকে এই নোটিসের অনুলিপি দেয়া হয়েছে।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ নভেম্বর ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে আদালত থেকে জামিন পান পরীমনি। সেদিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় পরীমনি জাগো নিউজের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক রবিউল হোসাইনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং তার নিরাপত্তাকর্মীরা ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন।
এতে জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান, আবদুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের সিয়াম হোসেন, টাইমস টুডের শাহ রিয়াজসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এমনকি সুজন চন্দ্র মণি নামের এক বিচারপ্রার্থীর মাথায় আঘাত লেগে রক্ত ঝরার ঘটনাও ঘটে।
পরে আদালত থেকে বেরিয়ে রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে গিয়ে পরীমনি তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ‘এদিকে আয়। আমার হাত এভাবে ধরলি কেন? তোকে পাড়িয়ে মেরে ফেলব’ বলে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। অথচ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে রবিউলের ডান হাতের তিনটি আঙুল নেই এবং ওই হাত দিয়ে তিনি স্বাভাবিক কাজকর্মও করতে পারেন না বলে নোটিসে তুলে ধরা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৬ নভেম্বর পরীমনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অশ্লীল বক্তব্যসহ একটি পোস্ট দেন, যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা আবহ সংগীত হিসেবে জাতীয় সংগীত ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ারের পাঠানো নোটিসে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান এবং দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যানথেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার ১৯৭২ অনুযায়ী জাতীয় সংগীতের অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে পরীমনির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ তরুণ ও কিশোর সমাজকে মারাত্মকভাবে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
নোটিসে আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য পরীমনিকে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অশ্লীল আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার তাগিদ দেয়া হয়।
পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন পরীমনিকে শোকজ করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অন্যথায় দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।