ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ, মডেল ও অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি তার ক্যারিয়ারে যোগ করলেন এক বর্ণিল ও ঐতিহাসিক অধ্যায়। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত জমকালো এক গ্র্যান্ড ফিনালেতে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এর মুকুট নিজের মাথায় পরে নিয়েছেন তিনি। আত্মবিশ্বাস, মেধা ও সাবলীল উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে সেরা সুন্দরীর এই খেতাব অর্জনের পর এখন তার সামনে হাতছানি দিচ্ছে আরও বড় এক বৈশ্বিক মঞ্চ।
১১ নভেম্বর থেকে ক্যারিবীয় দ্বীপ পুয়ের্তো রিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ৭৫তম মিস ইউনিভার্স ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতার মূল আসর। আগামী ২৪ নভেম্বর সান জুয়ানের কোলিসিও ডি পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিত হবে এর জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুন্দরীদের সঙ্গে দেশের হয়ে লড়বেন মাহি।
শনিবার রাতে আয়োজিত প্রতিযোগিতার ফাইনালে পাথরের কারুকাজ করা শ্যাম্পেন গোল্ড রঙের অফ শোল্ডার মারমেইড গাউন পরে বিচারকদের মন জয় করেন মাহি। ইভেন্টের শেষ পর্যায়ে গত বছরের বিজয়ী এবং মাহির ঘনিষ্ঠ বন্ধু তানজিয়া জামান মিথিলা তার মাথায় রাজমুকুট পরিয়ে দেন।
মুকুট জয়ের পর নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাহি। তিনি জানান, তার বাবা-মা তাকে উৎসাহ দিয়ে বলেছেন, ‘যাও, বিশ্ব জয় করে এসো!’ সেই অদম্য অনুপ্রেরণা থেকেই তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। মাহি বলেন, একটি স্বপ্ন, একটি মুকুট, আর নিজের চেয়েও অনেক বড় এক দায়িত্ব। এটি শুধু আমার একার মুহূর্ত নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত।
মা-বাবা নাম রেখেছিলেন ফারজানা ইয়াসমিন কলি। ২০১৪ সালে বিনোদনজগতে পা রাখার সময় নিজের নাম বদলে রাখেন সামিরা খান মাহি। সেই শুরু হয় নতুন স্বপ্নের পথচলা। ২০১৪ সালে ‘রঙ আরটিভি ২০-২০ কালারস মডেল সার্চ’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিংয়ে পরিচিতি পান তিনি। র্যাম্পের মঞ্চ, ফ্যাশন শো ও বিজ্ঞাপনচিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে করোনা মহামারির সময় অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন মাহি।
অভিনয়জীবনে ‘গার্লস স্কোয়াড’ নাটকের মাধ্যমে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পান তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি; নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয়ের মাধ্যমে ১২০টিরও বেশি কাজ উপহার দিয়েছেন তিনি। গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রের পাশাপাশি সবসময় ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন এই তারকা। ব্যক্তিগত জীবনে নানা সময়ে সাজপোশাক বা মেকআপহীন লুক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার মুখে পড়লেও তিনি সবসময় নিজের কাজ ও আত্মবিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
এর আগে ২০১৯ সালে শিরিন শিলা, ২০২৪ সালে আনিকা আলম এবং ২০২৫ সালে তানজিয়া জামান মিথিলা ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ হয়েছিলেন। বিশেষ করে গত বছর মিথিলা বিশ্বের ১২২টি দেশের সুন্দরীদের পেছনে ফেলে সেরা ৩০-এ জায়গা করে নিয়ে দেশের জন্য এক অনন্য ইতিহাস গড়েছিলেন।
মাত্র পাঁচ দিনের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত নোটিসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক এই আসরের প্রস্তুতি নেওয়া বেশ কঠিন বলে স্বীকার করেছেন মাহি। তবে গতবারের বিজয়ী ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিথিলার পরামর্শ এবং নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে পুয়ের্তো রিকোর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নারীদের প্রতিনিধিত্ব করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত তিনি। র্যাম্পের গণ্ডি পেরিয়ে মাহির এই বিশ্বজয় এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।