ওমিক্রন ও সাধারণ ঠাণ্ডার মধ্যে যেসব পার্থক্য…

শীতকাল এলেই বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই বেড়ে যায় জ্বর-সর্দি-কাশি-হাঁচির মতো সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার লক্ষণ। এতে সবচেয়ে কাহিল হয়ে পড়েন শিশু ও বয়স্ক মানুষরা। 

এবারও শীতের শুরুতে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। বিশেষ করে শীতের জনপদ হিসাবে পরিচিত উত্তরের বিভিন্ন জনপদে শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব চলছে। 

এমন আবহের মধ্যেই দেশে আবারো করোনার রেখাচিত্র ঊর্ধ্বমুখী। ডেলটা, না নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে এই উর্ধ্বগতি সেটি পরিষ্কার না হলেও দৈনিক শনাক্ত লাফিয়ে বাড়ছে।

করোনার নতুন ধরনটির বেশির উপসর্গ সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার মতোই। আর এতেই বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছেন অনেকে। সাধারণ ফ্লুতে আক্রান্ত হলেও মাথায় ঘোরে- ওমিক্রন।

গত কয়েকমাস ধরে ওমিক্রনের উপসর্গ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনে আক্রান্তদের বেশিরভাগ শরীরে এক ধরনের যন্ত্রণা অনুভব করছেন।

এই যন্ত্রণা বা ব্যথা দেখা যাচ্ছে মূলত শরীরের কোমর থেকে পা পর্যন্ত অংশে। সাধারণ ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হলে এই ধরনের ব্যথা বা যন্ত্রণা সচারচর দেখা যায় না।

‘জোয়ি’ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে করোনা উপসর্গের ওপর নজর রাখতে গিয়ে গবেষকরা ওমিক্রনের দুইটি নতুন উপসর্গ পেয়েছেন। যা সাধারণ ঠাণ্ডার উপসর্গের থেকে আলাদা।

আরও পড়ুন: টিকা নেয়ার পরও ওমিক্রনে আক্রান্তের যত সব উপসর্গ

লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক টিম স্পেক্টর জানিয়েছেন, ওমিক্রনে আক্রান্তরা শুরুর দিকে গা-গুলানো বা বমি ভাব অনুভব করছেন। তার পরেই শরীরের নীচের অংশ যন্ত্রণা শুরু হচ্ছে। 

তবে এতে শঙ্কিত হবার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলছেন, এই দুই উপসর্গই বড়জোর তিন থেকে চার দিন থাকছে। তারপর ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

ব্রিটেন, আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন আক্রান্তদের উপর চালানো গবেষণা কিংস কলেজ অব লন্ডনের এই গবেষক আরো জানাচ্ছেন, যন্ত্রণার উপসর্গ পুরো শরীরেও ছড়াতে পারে।

ওমিক্রনের সাধারণ উপসর্গগুলো হল গলায় অস্বস্তি, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, ক্লান্তি ভাব। তার সঙ্গে পেশিতে ব্যথা এবং বমি ভাব।

এছাড়া ওমিক্রনে আক্রান্তদের মধ্যে রাতের দিকে ঘাম হওয়া, গায়ে র‍্যাশ বেরুনোর মতো কিছু উপসর্গও ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।


একাত্তর/এসজে