পানি জমে থাকার কারণেই মাতুয়াইলে বাড়ছে ডেঙ্গু

ডোবা-নালায় পানি জমে থাকায় রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি জমে থাকলেও এ এলাকায় নিয়মিত ছিটানো হয় না এডিস ধ্বংসকারী ওষুধ।

তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দাবি, ভবন নির্মাণকারীদের অসচেতনতার কারণে পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না এডিসের লার্ভা।

পাখির চোখে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকা, যতদূর চোখ যায় ততদূরই যেন নতুন নতুন ভবনের পাশে শুধু ডোবা আর নালা।


রাজধানীর দক্ষিণ সিটিতে নতুন সংযুক্ত ঢাকার এই এলাকায় সম্প্রতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে এডিসের সংক্রমণ। তথ্য বলছে ডেঙ্গু পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ সময়ে মুগদা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের একটা বড় অংশ মাতুয়াইলের বসবাসকারী।

মাতুয়াইলের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ এলাকায় প্রচুর মশা বেড়েছে। রাতে তো মশারি টানাতে হয়ই, দিনের বেলায়ও ছোট বাচ্চা আর বয়স্কদের রাখতে হয় মশারির নিচে। তবুও রেহাই মিলছে না ডেঙ্গু থেকে।

তারা বলেন, আগে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা প্রতি বৃহস্পতিবার এ এলাকায় মশার ওষুধ ছিটাতে এলেও বর্তমানে আসছে না।


এলাকাবাসীর দাবি, সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হলেও অনেক অবহেলিত এই এলাকা। পাঁচ বছর পেরুলেও দূর হয়নি জলাবদ্ধতার সমস্যা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই এ এলাকার রাস্তাঘাটে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এই জমা পানিতে চলে মশার অবাধ বংশবৃদ্ধি। 

জলবদ্ধতার অন্যতম কারণ খালগুলোতে পানির প্রবাহ না থাকা। ময়লা ফেলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পানির স্বাভাবিক গতি। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভূইয়া সেন্টুর দাবি, ভবন নির্মাণে সচেতন নন এলাকার মানুষ, যত্রতত্র ফেলে রাখা হয় নির্মাণ সামগ্রী। তবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।


তিনি আরও জানান, মশার ওষুধ ছিটাতে গেলেও পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেন না এলাকাবাসী। এলাকায় বাড়ির বাইরেই সাধারণত ওষুধ ছিটানো হয়। তারা কর্মীদের নির্মাণাধীন ভবন বা বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। 

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু নিয়ে জরুরি অবস্থার পরিস্থিতি আসেনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মশা নির্মূলে জোরালো পদক্ষেপ না নিলে মাতুয়াইলের ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে দ্রুতই মশা নির্মূলে জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে এ এলাকার ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন কাউন্সিলর সেন্টু।


একাত্তর/জো