স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিরুৎসাহিত করলেও রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোজই আসছে ডেঙ্গু আক্রান্ত ঢাকার বাইরের রোগী। যাদের বেশিরভাগই আসছেন শক সিনড্রোমের মতো গুরুতর অবস্থা নিয়ে। তবে রোগীর স্বজনদের দাবি, স্থানীয় হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়েই তাদের রাজধানীতে আসতে হচ্ছে।
সরেজমিন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে দিয়ে দেখা গেছে, মাদারীপুর থেকে হাসপাতালটিতে ১০ দিন থেকে ডেঙ্গু চিকিৎসা নিয়েছেন এক রোগী। তিনি জানান, নিজ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসায় ভরসা না পেয়ে ঢাকায় এসেছেন। এই ১০ দিনে রক্তের প্লাটিলেট ১৭ থেকে ৪৫ হাজারে উঠেছে। ডেঙ্গু মুক্ত হলেই বাড়ি ফিরে যাবেন।
একই হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসধীন ভোলার আরেক রোগী জানান, ব্যবসার কাজে ঢাকায় এসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকায় চিকিৎসা গ্রহণের সিদ্ধান্তটি সঠিক বলে মন করছেন তিনি।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক জানান, ঢাকার বাইরে থেকে কী পরিমাণ রোগী আসছে সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই।
তার মতে, শক সিনড্রোম ও হেমারেজিক পরস্থিতি নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের বেশিরভাগ ঢাকার বাইরের জেলা থেকে আসা।
এদিকে রাজধানীর ডিএনসিসি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কর্নেল একেএম জহিরুল হোসাইন খানও জানালেন একই কথা। তিনি বলেন, ডেঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আসা রোগীদের মধ্যে ঢাকার বাইরের রোগীই বেশি।
রোববার দেশের অন্য জেলার ডেঙ্গু রোগী ঢাকা শহরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য না আনার বা না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রধান বিষয় হলো ফ্লুইড ম্যানেজম্যান্ট। যা যে কোনো হাসপাতালেই দেয়া সম্ভব। গুরুতর অবস্থায় চলে যাওয়া কোনো রোগীকে ফ্লুইড চিকিৎসা ছাড়া ঢাকায় পাঠানো হলে তার ঝুঁকি বরং আরও বাড়বে।
একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের নিজ নিজ জেলার হাসপাতালগুলোর ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।