অদৃশ্য একটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের টিকে থাকার লড়াই। করোনার বারবার রূপ বদল; নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট। তাহলে কেমন করে টিকবে মানুষ? বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু মানব দেহকে আশ্রয় করেই ভাইরাসের টিকে থাকা, তাই আক্রান্তদের বিচ্ছিন্ন রেখেই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়াটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তারা বলছেন অন্তত এক ডোজ করে হলেও সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় এনে মধ্যম মানের সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। আর ততদিন পর্যন্ত অক্সিজেন থেরাপি কমাতে পারে মৃত্যুঝুঁকি।
গণমাধ্যম বিশ্লেষক মোজাম্মেল বাবু বলেন, প্রাণীর কোষবিভাজনের প্রক্রিয়ায় ‘ডিএনএ’ কপি করার সময় ছোট ছোট বিচ্যুতি ঘটতে থাকে, যা ‘মিউটেশন’ নামে পরিচিত। এ রকম মিউটেশনের ফলেই নতুন ‘ভেরিয়েন্ট’ জন্ম নেয়। এদের মধ্যে যে কয়টা রূপভেদ সে প্রাণীর বংশবিস্তারে সহায়ক হয়, সেগুলো ‘স্ট্রেইন’ হিসেবে টিকে যায় এবং অন্য সব অনানুকূল ভেরিয়েন্ট বংশবৃদ্ধি করতে না পেরে বিলীন হয়ে যায়। আর এসবের মধ্যে যেটি অতি আনুকূল্য পায়, সেটি ‘ডমিনেন্ট’ হয়ে ওঠে। এ রকমই একটি ‘ডমিনেন্ট স্ট্রেইন’ বি.১. ৬১৭, যাকে ‘ডেলটা ভেরিয়েন্ট’ বা ‘ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট’ বলা হচ্ছে। এ ডেলটা ভেরিয়েন্টের ওপর আরেকটি মিউটেশনের ফলে জন্ম নিয়েছে ‘ডেলটা প্লাস’। প্রাথমিকভাবে করোনা মহামারির জন্য চীনকে দায়ী করা হলেও পরবর্তী কিছু গবেষণায় জার্মানি ও ইতালিতে উহানের আগেই এ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সেগুলোও চীন থেকে গিয়েছিল কি না, কিংবা এসবের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রেরই–বা কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, সেগুলো অবশ্য পৃথক বিতর্ক, ভিন্ন রাজনীতি!
করোনার কবলে বিশ্বব্যাপী ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এটা তো কেবল রোগের কারণে কিন্তু করোনা মানুষের জীবনযাত্রায় যে প্রভাব ফেলেছে তাতে নিঃস্ব হয়েছে আরও অনেক বেশি।
কখনো আলফা, কখনো ডেল্টা আবার কখনো ল্যামডা ভ্যারিয়েন্টের রূপ ধরে হাজির হচ্ছে করোনা। কারণ ভাইরাসটি টিকে থাকতে চাইছে মানুষের শরীরে।
আরও পড়ুন: দেশজুড়ে বিষের কারখানা, যুক্ত আছেন চাইনিজরাও
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সমীর সাহা বলেন, করোনার লড়াইয়ে সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র টিকা। তবে, আংশিক জনগোষ্ঠীকে টিকার সুরক্ষা দেওয়ায় অনেকটা হিতে বিপরীত হচ্ছে। টিকা না পাওয়া মানুষের শরীরকে আশ্রয় করেই নিজেকে বদলে নিচ্ছে করোনা।
যা দিনশেষে টিকা পাওয়া মানুষদেরও আর নিরাপদ রাখতে পারছেনা।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ, এক ডোজ টিকা দিয়ে হলেও সবার জন্যই একটি মধ্যমমানের সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে। যতদিন এই ভাইরাস টিকে আছে ততদিন মৃত্যু কমাতে সবচেয়ে কার্যকরী অক্সিজেন থেরাপি। হাসপাতাল ছাড়াও যাতে নূন্যতম এই চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায় সেজন্য অক্সিজেন থেরাপি সেন্টার সহজলভ্য করা কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
একাত্তর/এসি